আজ : সোমবার, ১১ই ডিসেম্বর ২০১৭ ইং | ২৭শে অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

মাদকসেবীদের দখলে ফার্মগেট পার্ক


সকল নিউজ আপডেট পেতে পেইজে লাইক দিন

এক সময় বিকেল হলেই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে উঠত ফার্মগেটের আনোয়ারা পার্কটি। খাতা কলমে আনোয়ারা পার্ক নাম থাকলেও নগরবাসী এটি ফার্মগেট পার্ক নামেই চেনে। ছোট ছোট কোমলমতি শিশুরা সবুজ ঘাসের উপর খেলা করত, আনন্দে ভরে উঠত মা-বাবার মন। কিন্তু কালের বিবর্তনে শিশুদের এখন আর খেলতে দেখা যায় না। এটি এখন পরিণত হয়েছে মাদকসেবী আর নিশি কন্যাদের আড্ডাস্থল ।

সীমানা প্রাচীর ঘিরেই গড়ে উঠেছে ছোট ছোট ছোট কয়েকটি থাকার ঘর। কয়েক জায়গায় আখ স্তুপ করে রাখা হয়েছে। ময়লা আবর্জনার ভাগাড় হিসেবে পরিণত হয়েছে। শুধু তাই নয় পথচারীদের বিশ্রামের জন্য যে ছাতা ও বেঞ্চগুলো রয়েছে সেগুলো দখল করে নিয়েছে পার্কে বসবাসকারী আশ্রিত পরিবারগুলো।

পার্কের গেইট দিয়ে ঢুকতেই চোখে পড়ে এক মহিলা তাঁর ভাত রান্না করছে। শুধু রান্নাবান্না নয়,খাওয়া-দাওয়া এবং মলমূত্র ত্যাগ করাসহ সকল নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজ এই পার্কটিতে সারে আশ্রিত পরিবারগুলোর সদস্যরা। ফলে পার্কে জায়গায় জায়গায় গড়ে উঠছে মলমূত্র ও ময়লা আবর্জনার স্তর।

কত দিন ধরে এখানে আছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন ‘আছি মেলা দিন ধইরা। পাশেই এক আখ বিক্রেতা আখের স্তুপ থেকে আখ বের করে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করছে।

স্থানীয় জনতা ও পথচারী এবং পার্কে অবস্থিত ভাসমান হকারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়,পার্কে আশ্রিত প্রতিটি পরিবারে ৫-৭ জন করে সদস্য রয়েছে। সব মিলিয়ে সংখ্যা দাঁড়ায় ৩০-৩৫ জন। তবে কথিত এই পরিবারের সদস্যরা একই পরিবারের কিনা তা নিয়েও সন্দেহ আছে। রাতে হলেই বিভিন্ন অসামাজিক কার্যক্রমে লিপ্ত হয় তারা।

এদের মধ্যে অনেকে রাত হলেই হয়ে যায় মাদক ব্যবসায়ী কিংবা ছিনতাইকারী। পরিবারগুলোর অনেক নারী হয়ে যায় দেহ ব্যবসায়ী। তাদের অসামাজিক কর্মকাণ্ড চলে রাতব্যাপী। সকাল হলেই তারা আবার হয়ে যায় বাস্তুহারা! এসব কার্যক্রম যেন তারা নির্বিঘ্নে চালাতে পারে সেজন্য সন্ধ্যা ৭টার পরপথচারীদের পার্কটি ব্যবহার করতে বাধা দেন তারা।

এ সব অসামাজিক কার্যকলাপ চলে পুলিশের নাকের ডগাতেই। স্থানীয় অনেকের অভিযোগ, পুলিশকে নিয়মিত মাসোহারা দিয়েই চলে এই অসামাজিক কাজ।

স্থানীয় কয়েক জন দোকানদার ও হকাররা জানায়, রাতের বেলায় এক শ্রেণির লোকজন এমনভাবে লাইন ধরে পার্কে গাঁজা কিনতে আসে দেখে মনে হবে সিনেমার টিকিটের জন্য দাঁড়িয়েছে। প্রকাশ্যে চলে এই সব কেউ বলার নেই।

ষাটোর্ধ্ব ওহাব মিয়া জানান, আমি তেজগাঁ সরকারি কলেজের দিন মজুরির কাজ করি। আমার দেশের বাড়ি পটুয়াখালিতে। আমার দুই মেয়ে ও দুই ছেলে রয়েছে। তাঁদেরও ছেলে- মেয়ে রয়েছে। কিন্তু অবাক করার বিষয় হলো মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ না থাকলে পার্কে আসি একটু স্বতি নেওয়ার জন্য। আর তখননি কিছু খারাপ মেয়েরা আজে বাজে কথা বলতে থাকে। তখন নিজের কাছে খুব খারাপ লাগে। যে কোথায় বাস করি আমরা। কোনো যুগে আছি।

আর অন্যদিকে দিনের বেলায় ময়লা আবর্জনার গন্ধে পার্কটিতে যাওয়া যায় না। ফুটপাতে চলার সময় পথচারীদের মুখে রোমাল চেপে যেতে হয়।

ময়লা আবর্জনা ফেলা নিষেধ- আদেশক্রমে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিডিএনসিসি)। রাজধানীর ব্যস্ততম ফার্মগেটে আনোয়ারা পার্কের সীমানা ঘিরে এভাবেই তিন থেকে চারটা সাইনবোর্ড দিয়েই দায়িত্ববোধের পরিচয় দিয়েছেন ডিএনসিসি। পাশেই খামার বাড়ি ময়লা ভাগাড় থাকা স্বত্বেও পার্কটিই ময়লার বাগাড়ে পরিণত হয়েছে।

Loading...

আরও পড়ুন...
Top