আজ : সোমবার, ১১ই ডিসেম্বর ২০১৭ ইং | ২৭শে অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

৪৫ বছরে বাংলাদেশের সংবিধান


সকল নিউজ আপডেট পেতে পেইজে লাইক দিন

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন হিসেবে সংবিধানকে বিবেচনা করা হয়। সংবিধান বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন। কোনো শাসনব্যবস্থার মূলগ্রন্থ সংবিধান, যাতে স্বায়ত্তশাসিত কোনো রাজনৈতিক সত্তার কর্তব্য নির্ধারণের মৌলিক নিয়ম ও সূত্রসমূহ লিপিবদ্ধ থাকে। কোনো দেশের ক্ষেত্রে এই শব্দ সেদেশের জাতীয় সংবিধানকে বোঝায় যা রাজনৈতিক মৌলিক নিয়ম ও সরকারের পরিকাঠামো, পদ্ধতি, ক্ষমতা ও কর্তব্যকে প্রতিস্থাপিত করে।

আজ সংবিধান দিবস। ১৯৭২ সালের এই দিনে বাংলাদেশের সংবিধান প্রণীত হয়। সে বছরই ১৬ ডিসেম্বর সংবিধান কার্যকর হয়। বাংলাদেশের সংবিধান আজ ৪৫ বছরে পদার্পন করল।

দীর্ঘ ৪৫ বছরে সংবিধান সংশোধন হয়েছে ১৬ বার। যে চার মূল নীতির ওপর ভিত্তি করে বাহাত্তরের সংবিধান প্রণীত হয়েছিল, পরবর্তী কোনো সরকারই তার চর্চা করেনি বলে মনে করেন আইনজ্ঞরা। সংবিধানকে শুধু আইনজীবী আর সংসদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে, ভবিষ্যত প্রজন্ম যাতে এটি সম্পর্কে জানতে পারে সেই ব্যবস্থা নেয়ার পরামর্শ তাদের। স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের উদ্দেশ্যে ১৯৭২ সালের ১১ জানুয়ারি তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অস্থায়ী সাংবিধানিক আদেশ জারি করেন। পরবর্তীতে ২৩ মার্চ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ গণপরিষদ আদেশ জারি করেন। ১৯৭০ এবং ৭১ সালের জানুয়ারি মাসে নির্বাচিত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদ সদস্যরা গণপরিষদের সদস্য বলে বিবেচিত হন।

এই গণপরিষদের সদস্য ছিল ৪৩০ জন। তৎকালীন আইনমন্ত্রী ড. কামাল হোসেনকে প্রধান করে যে সংবিধান রচনা কমিটি করা হয়েছিল তার সদস্য ছিল ৩৪ জন। সংবিধান রচনা কমিটির একমাত্র মহিলা সদস্য ছিলেন বেগম রাজিয়া বানু। সংবিধান রচনা কমিটির একমাত্র বিরোধী দলীয় সদস্য ছিলেন সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত। এই কমিটি ভারত ও যুক্তরাজ্যের সংবিধানের আলোকে বাংলাদেশের সংবিধান রচনা করে।

সংবিধানের খসড়া সর্বপ্রথম গণপরিষদে উত্থাপিত হয় ১৯৭২ সালের ১২ অক্টোবর। এরপর ৪ নভেম্বর তা গণপরিষদে গৃহীত হয়। এজন্য ৪ নভেম্বর সংবিধান দিবস হিসেবে পালন করা হয়। উল্লেখ্য, সংবিধান প্রণয়নের ৪৫ বছরের মধ্যে এ পর্যন্ত একে সংশোধন করা হয়েছে ১৬ বার। যার মধ্যে জেনারেল জিয়াউর রহমানের আমলে পঞ্চম সংশোধনীতে ৭৫ এর ১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারের হত্যার পর থেকে ৬ এপ্রিল ১৯৭৯ পর্যন্ত সামরিক শাসন আমলের সব আদেশ, ঘোষণা ও দন্ডাদেশ বৈধ বলে অনুমোদন করা হয়। একই ভাবে স্বৈরশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আমলে সপ্তম সংশোধনীর মাধ্যমে সামরিক শাসন আমলে জারি করা সব আদেশ, আইন ও নির্দেশকে বৈধতা দেওয়ার পাশাপাশি আদলতে এ বিষয়ে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন না করার বিধান করা হয়।

আর এরশাদের আমলেই অষ্টম সংশোধনীর মাধ্যমে ইসলামকে করা হয় রাষ্ট্রধর্ম। পরে অবশ্য আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংবিধানের পঞ্চম, সপ্তম, ত্রয়োদশ ও ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে উচ্চ আদালত। ৭২ এ প্রণীত সংবিধান ছিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বহিঃপ্রকাশ। এই সংবিধান সংশোধনের কোনো প্রয়োজন না থাকলেও ক্ষমতার লোভেই এই সংশোধনগুলো করা হয়েছিল বলে মনে করেন সংবিধান প্রণয়ন কমিটির অন্যতম সদস্য ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম। তাই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা না গেলে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। শুধু দিবস পালন করলেই হবে না, সংবিধানে জনগণের কী কী অধিকার রয়েছে সে সম্পর্কে তাদের ওয়াকিবহাল করতে এখনই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার তাগিদ দেন সংবিধান বিশেষজ্ঞরা। তবেই সংবিধান দিবস পালন সার্থক হবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি।

Loading...

আরও পড়ুন...
Top