আজ : শনিবার, ১৬ই ডিসেম্বর ২০১৭ ইং | ২রা পৌষ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

জরিপ বিভ্রাট


সকল নিউজ আপডেট পেতে পেইজে লাইক দিন

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে কমবেশি ১০ টি জরিপ করিয়েছে আওয়ামী লীগ। তিনশ আসনের ওপর এসব অধিকাংশ জরিপের ফলাফলে আওয়ামী লীগ এগিয়ে। প্রায় সবগুলো জরিপেই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, আগামী বছর অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবার জয়ী হবে। কিন্তু এসব জরিপের বিশ্বাসযোগ্যতা, জরিপ পদ্ধতি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে, খোদ আওয়ামী লীগই। আওয়ামী লীগের নেতারাই বলেছেন, এসব জরিপ মনগড়া। তথ্য উপাত্ত সঠিক নয়।

নির্বাচনী জরিপ, আধুনিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির একটি অনিবার্য অংশ। জরিপের মাধ্যমে নির্বাচনে জনগণের মনোভাবের ধারণা পাওয়া যায়। অনেক উন্নত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জরিপের ফলাফলের ওপরই নির্বাচনী ভাগ্য নির্ধারিত হয়। অনেক সময়, জরিপের সঙ্গে সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষা মেলে না। গত বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রায় সব জরিপেই হিলারি ক্লিনটনের বিজয়ের পূর্বাভাস করা হয়েছিল। কিন্তু আসল নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। আবার ব্রিটিশ নির্বাচনের জরিপে, থেরেসা মে’র কনজারভেটিভ দলের নিরঙ্কুশ বিজয় নিয়ে সংশয় প্রকাশ করা হয়েছিল। জরিপের ফলাফলের মতোই হয়েছিল নির্বাচনের ফলাফল।

বাংলাদেশের নির্বাচনের আগে জরিপ একটি নতুন সংস্কৃতি। ৯১ সাল থেকে একটি ইংরেজি দৈনিক এরকম একটি জরিপ করে। কিন্তু জাতীয়ভাবে কোনো জরিপ হয় না। ২০১৮ এর নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি দলীয় উদ্যোগে একাধিক জরিপ করেছে। মজার ব্যাপার হলো: আওয়ামী লীগের জরিপে আওয়ামী লীগের বিজয়, আর বিএনপির করা জরিপে বিএনপির বিজয়ের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের ১০টির বেশি জরিপের একটি সঙ্গে আরেকটির উপাত্তের কোনো মিল নেই।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব জরিপের প্রশ্ন ত্রুটিপূর্ণ, দৈবচয়ন ভিত্তিতে উত্তরদাতা নির্ধারন করলেও, দৈবচয়ন পদ্ধতি সঠিক নয়। আওয়ামী লীগের পক্ষের জরিপে বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকায় এমন ব্যক্তিদের কাছে প্রশ্ন দিয়ে যাওয়া হচ্ছে যারা আওয়ামীপন্থী অথবা আওয়ামী ভাবাপন্ন। ফলে তারা উত্তরও দিচ্ছেন সেভাবে। আবার বিএনপির জরিপেও একইভাবে বিএনপিপন্থীদের কাছেই প্রশ্ন নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ফলে, এসব জরিপের ফলাফল কোনো দলেরই কাজে আসছে না। তাই দুই দলই পেশাদার সংস্থা দিয়ে নতুন করে জরিপ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ ব্যাপারে কাজও শুরু করেছে।

আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সঙ্গে জড়িত এক নেতা বলেছেন, ‘আমাদের কয়েকটি জরিপ খুবই ভালো হয়েছে। আমরা প্রফেশনালদের দিয়ে করিয়েছি। তবে, জনমত পরিবর্তন হয়। এজন্যই আমরা জরিপ অব্যাহত রেখেছি।’ তবে অন্য একজন নেতা বলেছেন, ‘জরিপগুলো ত্রুটিপূর্ণ। আর যাই হোক, আগামী নির্বাচন ২০০৮ এর মতো হবে না। তাই জরিপের তথ্য যাচাই বাছাই করা প্রয়োজন।’ তাঁর মতে, ‘যারা জরিপ করেছেন, তারা হয়তো আওয়ামী লীগের নেতাদের খুশি করতেই এরকম তথ্য দিয়েছেন।’

আওয়ামী লীগ একটি জরিপেও সন্তুষ্ট নয়, এজন্যই আবার নতুন করে শুর করছে জরিপ।

সুত্রঃ বাংলা ইনসাইডার

আরও পড়ুন...
Top