আজ : শনিবার, ১৬ই ডিসেম্বর ২০১৭ ইং | ২রা পৌষ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

শতাধিক এমপি এলাকা থেকে পলাতক


সকল নিউজ আপডেট পেতে পেইজে লাইক দিন

এলাকায় কোটা ২০ জন। পুলিশ কনস্টেবলের চাকরি। এমপির কাছে চাকরির সুপারিশ নিয়ে এলেন ২০০ জন। সবাইকে চাকরির আশ্বাস দিলেন। শুধু আশ্বাসে সন্তুষ্ট নন চাকরি প্রার্থীরা, দিতে চান নগদ নজরানা। যতক্ষণ নজরানা না দিতে পারছেন ততক্ষণ তাঁদের স্বস্তি নেই। অবশেষে নগদ নারায়ন নিলেন এমপি মহোদয়। তাও আবার ২০০ জনের থেকে। ওই এলাকায় কনস্টেবলের নিয়োগ পাবেন ২০ জন জেনেও সবার জন্য সুপারিশ করলেন। চাকরি হলো ২০ জনের। বাকিদের টাকা তো ফেরত দিতে হবে। টাকা কি আর থাকে? একবার পকেটে ঢুকলেই তো শেষ। এলাকায় কথা উঠল। দলের নেতারা নানা রটনা শুরু করল। শুধু কনস্টেবল না, এর আগেও কয়েকটা নিয়োগ বাণিজ্য একই ঘটনা ঘটিয়েছে, তিনি। অত:পর কি আর করার, এলাকায় যাওয়াই বন্ধ করে দিলেন। দীর্ঘদিন এখন আর তিনি এলাকাতেই যান না। এরকম একটি নয়, নিয়োগ বাণিজ্যে নাকাল শতাধিক এমপি এখন এলাকা থেকে পলাতক।

শুধু নিয়োগ বাণিজ্য নয়, বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প থেকে কমিশন, অবৈধ লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে এদের বিরুদ্ধে।আওয়ামী লীগের মাঠ জরিপে এসব তথ্য ‍উঠে এসেছে। মাঠ পর্যায়ে জরিপ চালিয়ে দেখা গেছে, এদের কারণে স্থানীয় আওয়ামী লীগ বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই স্থানীয় আওয়ামী লীগ ওই এমপির সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ করেছেন। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে এমপি সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে। এই ধরনের প্রায় ১০০ এমপি এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাবে না। দলের ভাবমূর্তি সৃষ্টির লক্ষ্যে এসব আসনে উজ্জ্বল নতুন মুখ দেওয়া হবে, যারা ইতিমধ্যে এলাকায় কাজ শুরু করেছে।

আওয়ামী লীগের মাঠ জরিপের তথ্যে দেখা যাচ্ছে, শুধু নিয়োগ বাণিজ্য এবং ঘুষ আওয়ামী লীগের প্রায় সব অর্জনকে খেয়ে ফেলেছে। অন্তত একশ নির্বাচনী এলাকায় ডিও লেটারের নামে এরকম ভয়াবহ নিয়োগ বণিজ্য হয়েছে। যেখানে নিয়োগের চেয়ে বঞ্চিতদের সংখ্যা বেশি। কিছু কিছু এলাকায়, নিয়োগ না পাওয়া ব্যক্তিরা তাঁদের ঘুষের টাকা ফেরত পেলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ফেরত পাননি ভুক্তভোগীরা।

তবে সবক্ষেত্রেই এমপিদের নাম ভাঙানো হলেও সরাসরি এমপিরা এসব ঘুষ বাণিজ্যে জড়িত না। জড়িত তাঁদের অনুগত এজেন্টরা, যাঁরা এমপির নাম ভাঙিয়ে এসব কাজ করেছেন। এমপি হয়তো তাদের বিধবা ভাতা প্রাপ্যদের তালিকা করতে বলেছে, তল্পিবাহকরা তালিকা করতে গিয়ে এমপির নাম ভঙিয়েছেন। এমপি এখন লজ্জায় এলাকায় যাওয়াই বন্ধ করে দিয়েছেন।

উন্নয়নের ধারাবাহিকতা যেমন আওয়ামী লীগের পক্ষে আগামী আগামী নির্বাচনে প্রধান যুক্তি, ঠিক তেমনি নিয়োগ, ঘুষ, বাণিজ্য হলো আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় অস্বস্তির নাম। বিশেষ করে নিয়োগ বাণিজ্য আওয়ামী লীগের বিপুল ক্ষতি করেছে। আর এই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার একমাত্র উপায় হলো প্রার্থী বদল। তাই এবার নির্বাচনে অন্তত অর্ধেক আসনে আওয়ামী লীগ কলঙ্কহীন নতুন মুখ আনছে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘নিয়োগ বাণিজ্য একটি ব্যাধি। এটার সঙ্গে শুধু এমপি নয়, অনেক দালাল এবং টাউট জড়িত। যারা কোনো দলের না। আমরা বলেছি নিয়োগ বাণিজ্যের ব্যাপারে আমাদের জিরো টলারেন্স। যেই করুক এই কাজ, তার দায় আওয়ামী লীগ নেবে না।

বাংলা ইনসাইডার

আরও পড়ুন...
Top