আজ : মঙ্গলবার, ১২ই ডিসেম্বর ২০১৭ ইং | ২৮শে অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

আ. লীগে এরা কারা ?


সকল নিউজ আপডেট পেতে পেইজে লাইক দিন

বিএনপির সঙ্গেই ছিল তাঁর সখ্যতা। বিএনপি-জামাত যখন ক্ষমতায় ছিল, তখনই তাঁর স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ব্যবসার প্রসার হয়। একটি পোশাক শিল্পকারখানার দুর্ঘটনায় তিনি পাদপ্রদীপে আসেন। এরপর হঠাৎই তিনি এমপি। আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারকরা আশা করেছিলেন ‘সমাজসেবক’ ‘স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে উদ্যোক্তা’ ইত্যাদি কারণে এলাকায় তিনি জনপ্রিয় হবেন। কিন্তু দিন যত গড়াতে থাকল ততই ভুল ভাঙ্গতে থাকল নেতাদের। এলাকায় তিনি আলাদা আওয়ামী লীগ করেছেন। আর পুরোনো আওয়ামী লীগকে ক্রসফায়ারের হুমকি দিচ্ছেন।

এরকমই আরেক জন রিয়েল স্টেট ব্যবসায়ী। জামাতের সঙ্গে তাঁর ওঠা বসা ছিল। ওয়ান ইলেভেনের পর হঠাৎই আওয়ামী লীগ হয়ে যান। নামিনেশন পান, ২০০৮ এর জোয়ারের নির্বাচনে এমপিও বনে যান। যেহেতু ব্যবসায়ী তাই এমপি পদটাকে টাকা বানানোর মেশিন বানিয়ে ফেলেন। পাওয়ার প্লান্ট, সরকারি টেন্ডার সবই প্রায় খেতে শুরু করেন। এতেও সমস্যা ছিল না, সমস্যা হলো যখন তিনি আওয়ামী লীগ খাওয়া শুরু করলেন। তাঁর এলাকা ছিল বাংলা ভাইয়ের এলাকা। তাঁর বদান্যতায় বাংলা ভাইয়ের সৈনিকরাও হয়ে যান আওয়ামী সৈনিক। আর এখন আওয়ামী লীগের কর্মীরাই হয়ে গেছেন ফেরারি।

‘হঠাৎ’ আওয়ামী লীগাররা এভাবেই জেঁকে বসেছে বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকায়। এরা এখন আওয়ামী লীগের চেয়েও শক্তিশালী। এরা কেউ আওয়ামী লীগের নীতি মানে না, আদর্শও বোঝে না। এলাকাতে এদের রয়েছে ‘তৃতীয় বাহিনী’। এদের কেউ হত্যা মামলার আসামি, কেউ চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ। এদের কারণে শুধু ওই এলাকা নয়, পুরো দেশে আসল আওয়ামী লীগ কোনঠাসা।

আওয়ামী লীগের তৃণমূলে এদের বলা হয় হাইব্রিড। শুধু হাইব্রিড এমপি নয়, আছে হাইব্রিড পাতি নেতা এবং কর্মীও। এই কর্মী, পাতি নেতা এবং এমপিদের নিয়েই এখন হঠাৎ আওয়ামী লীগ। এই হঠাৎ আওয়ামী লীগের অত্যাচারে অতিষ্টরা এখন হাঁসফাস করছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে হতাশ কর্মীরা অভিযোগ করছেন দলের সাধারণ সম্পাদককে। ওবায়দুল কাদের বিষয়টি দলের সভাপতিকে বলেছেন। কয়েকটি স্থানে হঠাৎ আওয়ামী লীগ দ্বারা আসল আওয়ামী লীগের মেলবন্ধনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাতে ফল হচ্ছে উল্টো। সম্প্রতি রংপুর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ তার প্রার্থীও ঘোষণা করেছে। কিন্তু এই প্রার্থীতাকে চ্যালেঞ্জ করে এক হঠাৎ আওয়ামী লীগ প্রচারণা চালাচ্ছে। ওই হঠাৎ আওয়ামী লীগের পিতা আওয়ামী লীগের নেতা। কিন্তু ক্রান্তিকালে তাঁর ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। তাছাড়া ওই তরুণ কয়েকটি টকশো করেই আওয়ামী নেতা বনে গেছেন। তাঁর টাকার ঝনঝনানিতে কাঁপছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগের একজন নেতা বলছিলেন, হঠাৎ আওয়ামী লীগ আর আসল আওয়ামী লীগের পার্থক্য বুঝতে হলে নারায়ণগঞ্জ আর রংপুর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের চিত্র দেখতে হবে। নারায়ণগঞ্জে শামীম ওসমান জাত আওয়ামী লীগ। মনোনয়ন না পেয়ে তিনি সেলিনা হায়াত আইভিকে সমর্থন জানিয়েছেলেন। এলাকায় আইভির বিরুদ্ধে কিছু করেননি। আর রংপুরে হঠাৎ আওয়ামী লীগ মনোনয়ন না পেয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে হারানোর জন্য আদাজল খেয়ে লেগেছেন। আসল আওয়ামী লীগ চিন্তা করে দলের স্বার্থ আর হঠাৎ আওয়ামী লীগ চিন্তা করে ব্যক্তি স্বার্থ। এত বিপুল হঠাৎ আওয়ামী লীগই এখন আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় বিপদ।

সুত্রঃ বাংলা ইনসাইডার

Loading...

আরও পড়ুন...
Top