আজ : সোমবার, ২৩শে জুলাই, ২০১৮ ইং | ৮ই শ্রাবণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

তারেক রহমানের পছন্দেই সিটি নির্বাচনে বিএনপির নতুন মুখ


গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশনে বর্তমান দুই মেয়রই বিএনপির। কিন্তু আগামী ১৫ মে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এ দুই সিটির নির্বাচনে বর্তমান মেয়রদের মনোনয়ন দেয়নি দলটি। এক্ষেত্রে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ইচ্ছেরই প্রতিফলন ঘটেছে। দলটির একাধিক নেতার সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানা গেছে।

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশেই দুই সিটিতে নতুন দুজন দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। এক্ষেত্রে খুলনায় বর্তমান মেয়র মনিরুজ্জামান মনির মনোনয়ন না পাওয়ার পেছনে দলটির সাবেক সংসদ সদস্য আলী আজগর লবির ভূমিকা ছিল। আর গাজীপুরে বর্তমান মেয়র এম এ মান্নানের শারীরিক অবস্থা ও দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে দূরত্ব বিবেচনায় নিয়ে তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগও তো এবার দুই সিটিতে নতুন প্রার্থী দিয়েছে। নতুন আর পুরনো তো কোনও প্রশ্ন নয়। বাস্তব অবস্থা বিবেচনা করে দল যাকে যোগ্য মনে করেছে তাকে মনোনয়ন দিয়েছে।’

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, ‘গতকাল সোমবার বিকালে তারেক রহমান লন্ডন থেকে ফোন করে গাজীপুরে হাসান সরকার এবং খুলনায় নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য দলের মহাসচিবসহ নীতিনির্ধাকদের নির্দেশ দেন। পরে ওইদিন রাতে গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে গাজীপুরের বর্তমান মেয়র এম এ মান্নান গেলে সেখানে তার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন তারেক রহমান। এসময় তিনি হাসান সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা করতে মেয়র মান্নানকে বলেছেন।’

বিএনপির একটি সূত্র জানায়, খুলনা-২ আসন থেকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে চান বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য আলী আজগর লবী। তিনি তারেক রহমানের কাছের লোক হিসেবে পরিচিত। এ আসনে আগামী নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হওয়ার কথা ছিল ২০০৮ সালের নির্বাচনে সংসদ সদস্য হওয়া নজরুল ইসলাম মঞ্জুর। নিজের রাস্তা পরিষ্কার করতে আলী আজগর লবী তারেক রহমানকে দিয়ে মঞ্জুকে খুলনায় মেয়র পদে প্রার্থী করিয়েছেন।

৩ এপ্রিল খুলনায় এক জনসভায় নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ‘বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি।’

খুলনা ও কেন্দ্রীয় বিএনপির দুই নেতা বলেন, তারেক রহমানের পছন্দে মঞ্জুকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে আলী আজগর লবীর একটি বড় ভূমিকা ছিল। লবী আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-২ থেকে নির্বাচন করারও ইচ্ছের কথা বিএনপির হাইকমান্ডের অনেককে জানিয়েছেন।

আরেকটি সূত্রে জানা গেছে, তালুকদার আব্দুল খালেককে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে বিএনপি। তারা বলছেন, তালুকদার আব্দুল খালেক স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয়। কিন্তু বর্তমান মেয়র মনিরুজ্জামান মনি সরকারের বিভিন্ন ‘অসহযোগিতার’ কারণে গত নির্বাচনের ইশতেহারের অনেক কাজই করতে পারেননি। যা আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বড় অস্ত্র হিসেবে কাজে লাগবে। এছাড়া মনির বিরুদ্ধে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে দূরত্বের অভিযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে, দলীয় মনোনয়ন পাওয়া খুলনা বিভাগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও খুলনা মহানগরের সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে যোগ্য মনে করেছে কেন্দ্রীয় বিএনপি। কারণ, কেন্দ্রীয় নেতা ও মহানগরের সভাপতি হিসেবে দলীয় নেতাকর্মী থেকে সাধারণ মানুষের কাছেও জনপ্রিয় তিনি।

বিএনপির নেতারা বলছেন, গাজীপুরের বর্তমান মেয়র এম এ মান্নান অসুস্থ। তিনি ঠিকমতো কথাও বলতে পারেন না। তাই নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা করাও তার পক্ষে সম্ভব হবে না। এছাড়া বিগত কয়েক বছরে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিভিন্ন কারণে তার দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে। এসব বিবেচনায় নিয়ে তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে, দলীয় মনোনয়ন পাওয়া হাসান উদ্দিন সরকার যোগ্য ও উইনিং প্রার্থী বলে মনে করেন দলটির নেতারা। এলাকার নেতাকর্মীরাও তাকে সবসময় কাছে পান এবং এলাকায় থাকেন তিনি। সাবেক সংসদ সদস্য হিসেবে এলাকায় তার একটা সুনাম রয়েছে। তাছাড়া তিনি দলের প্রতি অনুগতও। এসব বিবেচনা নিয়ে তাকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘যারা আগে ছিলেন, তারাও যোগ্য ছিলেন। গতবার যারা নির্বাচন করেছিলেন, তাদের দলের অন্য নেতারা সহযোগিতা করেছিলেন। এবারও যারা প্রার্থী হয়েছেন তাদের সবাই সহযোগিতা করবেন। তাছাড়া, একই লোককে বারবার মনোনয়ন দিতে হবে এমন কোনও কথা তো নেই। দল সমস্ত কিছু বিবেচনা করে যে অধিকতর যোগ্য, তাকে মনোনয়ন দিয়েছে।

এই ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ...
Top