আজ : মঙ্গলবার, ১৭ই জুলাই, ২০১৮ ইং | ২রা শ্রাবণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

সংলাপে বসাবসির কী প্রয়োজন


নির্বাচন নিয়ে বিএনপির সঙ্গে সংলাপের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া নিজেই সংলাপের পথ বন্ধ করেছেন।

ক্ষমতাসীন দলের নেতা বলেন, ‘নির্বাচনে অংশ নেয়া বিএনপির অধিকার, এটা সুযোগ নয়। সরকারের দয়া দাক্ষিণ্যের উপর বিএনপি নির্বাচন করবে? তাহলে সংলাপে বসাবসির কী প্রয়োজন?’।

শনিবার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করছিলেন ওবায়দুল কাদের।

শুক্রবার জাতির উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের প্রতিক্রিয়ায় পরদিন বিএনপির পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে সংলাপের দাবি জানান দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর প্রতিক্রিয়ায় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এসব কথা বলেন।

তবে বিএনপি ছাড়া অন্য দলের সঙ্গে সংলাপে আপত্তি নেই জানিয়ে কাদের বলেন, ‘সংলাপের দরজা আমরা বন্ধ করি নাই। রাজনৈতিক দল হিসাবে তা আমরা পারি না। তবে সেটা বিএনপির সাথেই হতে হবে এমন কোন কথা নেই। অন্য কারো সাথেও হতে পারে। আর নির্বাচন সুষ্ঠু হলে সংলাপের প্রয়োজন কি?’।

সংবিধানে নির্বাচনকালীন সরকারের বিষয়টি উল্লেখ নেই- বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদের এমন বক্তব্যের জবাবে কাদের বলেন, ‘তিনি বহুরূপি ব্যরিস্টার। তিনি আইনের কথা বলে বেআইনি কথা বলছেন। সংবিধানে সবই আছে। আইন আছে, অনেক বিধি বিধান আছে। আপনি আরেকবার ভালো করে সংবিধান দেখবেন।’

‘সংলাপের পথ বন্ধ করেছেন খালেদা জিয়া’

২০১৩ সালে সংলাপে বসতে বিএনপি চেয়ারপারসনকে প্রধানমন্ত্রীর ফোন করার পর ‘অসৌজন্যমূলক আচরণের’ কথাও স্বরণ করিয়ে দেন কাদের।

বলেন, ‘সংলাপের রাস্তা বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া নিজেই বন্ধ করেছেন। টেলিফোনে প্রধানমন্ত্রীর সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছিলেন। অশ্রাব্য ভাষার ব্যবহার করেছিলেন। সেদিন প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে গণভবনে আসলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবেশ অন্যরকম হতো।’

‘আসলে সংলাপের আহ্বান বিএনপির স্ট্যান্টবাজি। সংলাপের কথা যতই বলে, সংলাপের মানসিকতা তাদের মাঝে নেই। সংলাপ তারা চায় না, সংলাপের ইচ্ছা থাকলে সেদিন নোংরা ভাষায় সংলাপের আহ্বান প্রত্যাখান করতো না।’

২০১৫ সালে খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুর পর খালেদা জিয়াকে শান্তনা দিতে যাওয়া প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আচরণ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন কাদের। বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাকে (খালেদা) সমবেদনা জানাতে গেলে দরজা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। এর মাধ্যমে সংলাপের পরিবেশ নষ্ট করেছিল বিএনপি। সেদিন ঘরের দরজা বন্ধ করে সংলাপের দরজা বন্ধ করেছে।’

Top