আজ : শনিবার, ১৬ই ডিসেম্বর ২০১৭ ইং | ২রা পৌষ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

বিএনপি জঙ্গি সংগঠনে পরিণত হবে?


সকল নিউজ আপডেট পেতে পেইজে লাইক দিন

বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কি উপমহাদেশের আরেকটি জঙ্গি সংগঠনে পরিণত হবে? এই প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে গবেষণা কনসোর্টিয়াম ‘টেররিজম রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস কনসোর্টিয়া ‘ (ট্রাক) এর সাম্প্রতিক গবেষণা থেকে। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ভেরিয়ান খান সম্পাদিত গবেষণায় গত কয়েক বছরে বিএনপির কার্যক্রম মূল্যায়ন করে বলা হয়েছে, ‘সংগঠনটি ক্রমশ: প্রচলিত গণতান্ত্রিক ধারার রাজনৈতিক কর্মসূচি থেকে গুপ্তহত্যা, নাশকতা ও সন্ত্রাসবাদের দিকে ঝুঁকে পড়েছে।’ গবেষণায় দেখানো হয়েছে, ‘ক্রমশ: সংগঠনটি ইসলামী ছাত্রশিবির, জামাত, জেএমবি, আরসা, লস্কর-ই-তৈয়বার মতো জঙ্গি ও সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।’ গবেষণায় মন্তব্য করা হয়েছে, ‘আগামী এক বছরের মধ্যে বাংলাদেশ যে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তাতে যদি বিএনপি অংশগ্রহণ না করে, তাহলে দলটি জঙ্গি সংগঠন হিসেবে রূপান্তরিত হবে।’

২০১১ সালে যাত্রা শুরু করা ট্রাক ইতিমধ্যে জঙ্গিবাদ, রাজনৈতিক সন্ত্রাসবাদের ওপর গবেষণায় বিশ্বব্যাপী আলোচিত হয়েছে। ‘রোহিঙ্গা শরণার্থী কি দক্ষিণ এশিয়াকে অস্থিতিশীল করে তুলবে’ বিষয়ে সর্বশেষ গবেষণা প্রতিবেদনে বাংলাদেশের রাজনীতির আদ্যোপান্ত উঠে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, ‘জামাতে ইসলামী এবং ইসলামী ছাত্রশিবির সংগঠন দুটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে সন্ত্রাসী ও জঙ্গি সংগঠন। এই সংগঠন দুটির সঙ্গে জেএমবি, আল-কায়েদা, আইসিসের মতো জঙ্গি সংগঠনগুলোর সম্পর্ক রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশে এই জঙ্গি সংগঠনগুলোর তৎপরতা বহুগুণ বেড়ে গেছে।’

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘বিএনপি ১০ বছর ধরে ক্ষমতার বাইরে। ২০১8 সালের নির্বাচনে অংশ না নিয়ে দলটি সন্ত্রাসবাদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। এ সময় দলটি গুপ্তহত্যা, অগ্নিসংযোগ এবং ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে অস্থির পরিস্থিতি সৃষ্টি করে ব্যর্থ হয়। কিন্তু এখনো সংগঠনটির সঙ্গে জঙ্গি গোষ্ঠীর প্রকাশ্য সম্পর্ক রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘মিয়ানমারের জঙ্গি সংগঠন আরসা মিয়ানমারের এবং বাংলাদেশে জঙ্গি ও সন্ত্রাসী তৎপরতা শুরু করতে পারে। এই তৎপরতায় তারা বাংলাদেশ ধুকঁতে থাকা নিষিদ্ধ ও জঙ্গি সংগঠনগুলোর সাহায্য পাবে। বিএনপির মতো মূলধারার রাজনৈতিক দলের ছাতার নিচে থেকে তারা এরকম তৎপরতা চালাবে বলেই মনে হচ্ছে। অন্যদিকে বিএনপিও সরকারকে অস্থিতিশীল এবং ভঙ্গুর করার জন্য এই গোষ্ঠীকে বাংলাদেশেও ব্যবহার করতে পারে। বিশেষত আগামী নির্বাচনের আগে বিএনপি তার দাবি আদায়ের জন্য আন্দোলনের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারে এই সব সংগঠনকে। এধরনের কাজে জঙ্গি সংগঠনগুলোকে ব্যবহার করা হলে, বিএনপি তার রাজনৈতিক চরিত্র হারাবে।’

প্রতিবেদনে ইতিমধ্যেই সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা বিএনপিতে যোগ দিয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়। আগামী নির্বাচন দলটির জন্য অগ্নিপরীক্ষা এবং অস্তীত্ব সংগ্রাম বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন...
Top