আজ : সোমবার, ২৩শে জুলাই, ২০১৮ ইং | ৮ই শ্রাবণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

খালেদাকে কারাগারে নিলে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা


মিথ্যা, বানোয়াট ও পাতানো একটি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে নেওয়া হলে সেটাকে বিএনপি রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করবে। এমনটাই জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

জাতীয় প্রেসক্লাবের অডিটোরিয়ামে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সাবেক প্রতিমন্ত্রী মরহুম নূরুল হুদার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।

সভার আয়োজন করে নূরুল হুদা স্মৃতি সংসদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় বেগম খালেদা জিয়ার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। কুয়েতের আমীর, জিয়াউর রহমানের নামে ট্রাস্টটিতে সরাসরি টাকা পাঠিয়েছিলেন। তিনি একটি প্রতিষ্ঠানে দান করেছিলেন। সরকারের কোনো রিলিফ ফান্ডে আসেনি। তাই এর সাথে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তারপরেও গায়ের জোরে তার বিরুদ্ধে মামলা চালিয়ে গেছে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, সপ্তাহে তিন দিন তাকে আদালতে বসে থাকতে হয়। মানসিকভাবে তাকে নির্যাতন করছেন। এর একটাই উদ্দেশ্য, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারিতে যে রকম নির্বাচন করেছে, জনগণের ভোট ছাড়া গায়ের জোরে ক্ষমতায় বসেছে, আবারো একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের সাথে প্রতারণা করে ভোট ছাড়া ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায় আওয়ামী লীগ।’

দেশে ২০১৪ সালের মতো নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি আর হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আজকে বিএনপির সিনিয়র নেতা-কর্মীকে, বেগম খালেদা জিয়াকে নির্বাচনের বাইরে রাখার ষড়যন্ত্র চলছে। নির্বাচনের বাইরে রেখে তারা (আওয়ামী লীগ) আবার সেই ষড়যন্ত্র করছে। আমরা অতীতেও বলেছি, আজকেও বলছি, ২০১৪ সালের সেই নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি বাংলাদেশে আর হবে না। বেগম খালেদা জিয়া ছাড়া একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে না। হতে দেওয়া হবে না।’

আজকে বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে নেওয়ার যতই ষড়যন্ত্র করেন না কেনো, আমরা সকল মামলা আইনিভাবে মোকাবেলা করেছি। যদি এই মিথ্যা, বানোয়াট, পাতানো একটি মামলাকে কেন্দ্র করে, আমাদের নেত্রীর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তাহলে সেটাকে আমরা রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করবো।

এ সময় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করার জন্য যে আন্দোলনের ডাক দেওয়া হোক না কেনো সে ডাকে আপনারা ঐক্যবদ্ধভাবে সাড়া দেবেন।’

সংসদে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ‘আদালত আপনাকে রংহেডেড বলেছিল। অর্থাৎ মাথা খারাপ। একজন রংহেডেড মানুষ একটা দেশের সরকার প্রধান হতে পারে না। আরে রংহেডেড যদি না হবেন, পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে আমরা দেশের জনগণ যাদের নিয়ে আমরা গৌরব করি তাদেরকে আপনি গাধা বলেন! সমাজের রাষ্ট্রের শিরোমণি থাকেন বুদ্ধিজীবীরা, থাকেন পরামর্শদাতা সুধী সমাজ। সুধী সমাজ বুদ্ধিজীবীদেরকেই যদি আপনি গাধা বলেন, তাহলে দেশের জনগণকে গাধা বলা বাকি থাকলো? আপনি এ দেশের জনগণকে গাধা বলবেন, জনগণকে শিরোমণিদের গাধা বলবেন, ক্ষমতার শক্তিতে যা খুশি তাই বলবেন, আর আপনি শান্তিতে ক্ষমতার মসনদে বসে থাকবেন, সেটা জনগণ মেনে নিবে না। জনগণ আপনাকে উচিত শিক্ষা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত।’

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আবদুস সালাম, আমান উল্লাহ আমান, গোলাম আকবর খন্দকার, যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, ঢাকা মহানগর বিএনপির প্রয়াত নেতা নুরুল হুদার ছেলের তানভীর হুদা প্রমুখ।

Top