আজ : শনিবার, ১৬ই ডিসেম্বর ২০১৭ ইং | ২রা পৌষ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

আ. লীগের সমস্যা আছে


bdbarta24.net সকল নিউজ আপডেট পেতে পেইজে লাইক দিন

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ কাল রোববার ঢাকা আসছেন। পরামর্শক কমিশনের বৈঠক উপলক্ষে ঢাকায় এলেও তাঁর সফরে রাজনৈতিক অঙ্গনে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে আগামী নির্বাচনে ভারতের অবস্থান কি হবে তা সুস্পষ্ট হবে সুষমার সফরে। কাল ঢাকায় নেমেই ব্যস্ত সময় কাটাবেন সুষমা। বিকেলেই তিনি দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের নেতৃত্বে গঠিত যৌথ পরামর্শক কমিটির সভায় যোগ দেবেন। এখানে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সব খাত নিয়ে কথা হবে। সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করবেন সুষমা। পরদিন বেগম জিয়ার সঙ্গেও সুষমা স্বরাজের বৈঠক হবে। এছাড়াও ভারতীয় অর্থায়নে বাংলাদেশে একাধিক প্রকল্প উদ্বোধন করবেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

সুষমা স্বরাজের বাংলাদেশ সফরকে ভারতও অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে। সফরের আগে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর জন্য গোপন ডিপ্লোম্যাটিক ব্রিফিং তৈরি করা হয়েছে। এটা হবে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকায় আলোচনার ভিত্তি। কূটনৈতিক সূত্রে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে, ব্রিফিং এ বলা হয়েছে, ‘ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অনেক সমস্যা রয়েছে, কিন্ত এখনো দিল্লির কাছে দলটির বিকল্প নেই। অন্যদিকে বিএনপি সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘দলটির সঙ্গে বিশ্বাসযোগ্য সম্পর্ক তৈরির মতো বাস্তব পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।‘বাংলাদেশে সুশীল সমাজ সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘সাধারণ মানুষের মধ্যে বাংলাদেশের সুশীল সমাজ এখনো যৌক্তিক স্থান করে নিতে পারেনি। তবে একটি আস্থাভাজন সুশীল গোষ্ঠি বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের কৌশলগত সম্পর্কের জন্য অত্যন্ত জরুরি।’

প্রতিবেদনে আওয়ামী লীগ সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে ভালো। দুদেশ অনেকগুলো যুগান্তকারী অর্থনৈতিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতীয় বিচ্ছিনতাবাদীদের আশ্রয় না দেওয়ার ব্যাপারে শূন্য সহিষ্ণুতা নীতি সাফল্যের সঙ্গে বাস্তবায়ন করেছে।‘ আওয়ামী লীগের সমস্যা সম্পর্কেও ডিপ্লোম্যাটিক ব্রিফিং এ কথা বলা হয়েছে, ‘বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার বহুমাত্রিক কূটনৈতিক সম্পর্কের নীতি গ্রহণ করেছে । বিশেষ করে চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক অনেক বেড়েছে। চীনের কাছ থেকে সাবমেরিন কেনার বিষয়টি ভেবে দেখার মতো।‘ গোপনীয় এই ব্রিফিং এ বলা হয়েছে, ‘এখনো বাংলাদেশে সংখ্যালঘু বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর নিপীড়নের খবর পাওয়া যায়। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দলের অনেকেই জোর করে সংখ্যালঘুদের জমি দখল, সম্পত্তি দখল করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।’

এই ব্রিফিং এ বিএনপি সম্পর্কে আলোকপাত করে বলা হয়েছে, `বাংলাদেশে বিপুল সংখ্যক ভারতবিরোধী নাগরিকের জন্য বিএনপি আস্থার দল। বিএনপি এখনো বিভিন্ন ইস্যুতে ভারত বিরোধীতাকে উস্কে দেয়। যদিও সব আনুষ্ঠানিক বৈঠকেই বিএনপি ভারতের সহযোগিতা চায়। সাম্প্রতিক সময়ে দলটি ভারতের ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল। বিএনপি মনে করে এবং বিশ্বাস করে, একমাত্র ভারত চাইলেই একটি অবাধ ও নিরেপেক্ষ নির্বাচন বাংলাদেশে হতে পারে। তবে দলটির কথা ও কাজের মধ্যে বিস্তর ফারাক রয়ে গেছে। দলটির সঙ্গে পাকিস্তানের, বিশেষ করে পাকিস্থানি গোয়েন্দা সংস্থার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। দলটির অধিকাংশ নেতাই বিশ্বাস করে, ভারতের চেয়ে পাকিস্তান বাংলাদেশের ভালো বন্ধু।‘

আগামী জাতীয় নির্বাচন সম্পর্কে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে দেওয়া ব্রিফিং এ বলা হয়েছে, ’ভারত সব সময়, সব দেশে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখতে চায়। বাংলাদেশেও আগামী নির্বাচন সকল দলের অংশগ্রহণে হোক, এটাই ভারত চায়। তবে,ওই নির্বাচন কি পদ্ধতি হবে কিংবা রাজনৈতিক বিবাদ নিস্পত্তির ধরন কেমন হবে, তা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীন বিষয়। বাংলাদেশকেই এর সমাধান বের করতে হবে। ভারত কোনো রাজনৈতিক সমঝোতার উদ্যোগ নেবে না।

Top