আজ : বুধবার, ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং | ৯ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

রায় নিয়ে মুখোমুখি হচ্ছে আ.লীগ- বিএনপি


জিয়া অরফানেজ দুর্নীতি মামলার রায়ের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। ৮ ফেব্রুয়ারি মামলার রায়। দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর পর বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা দুর্নীতি মামলার নিষ্পত্তির দিন। ২০০৮ সালের ৩ জুলাই বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে এই মামলা করা হয়েছিল। বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে করা এই মামলার রায় হচ্ছে এমন এক সময়ে যখন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এক বছরেরও কম সময় বাকি।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল মনে করছেন, এই রায়ের উপর বাংলাদেশের রাজনীতির গতিপ্রকৃতি অনেকাংশে নির্ভর করছে। এই মামলার রায়ে যদি বেগম জিয়া খালাস পান, তাহলে বিএনপির নবজাগরণের সূচনা হবে। বিএনপির নেতৃবৃন্দ মনে করছেন, সেক্ষেত্রে দ্বিতীয় মামলা জিয়া চ্যারিটেবল দুর্নীতি মামলার রায়ের ফলাফল একই রকম হলে বেগম জিয়া বর্তমান সরকারের অধীনেই নির্বাচনে যাবেন। কিন্ত এই রায়ে যদি বেগম জিয়া দণ্ডিত হন তাহলে বিএনপি চূড়ান্ত আন্দোলনে যাবে বলে নিশ্চিত করেছে বিএনপির নেতৃবৃন্দ। রায়ের তারিখ ঘোষণার সময়ে বিএনপির মহাসচিব দলীয় কার্যালয়ে ছিলেন। আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনের পর তিনি দলের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনকে নিয়ে বসার সিদ্ধান্ত জানান। এছাড়াও ঢাকা মহানগর নিয়েও দুএকদিনের মধ্যেই বিএনপি মহাসচিব বসবেন বলেও জানা গেছে। বিএনপির একটি দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, শনি অথবা রোববার বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া দলের স্থায়ী কমিটির সভা করবেন। এরমধ্যে ২০ দলীয় জোটের সভাও হবে। বিএনপির একজন নেতা বলছেন, আগামী দুই সপ্তাহ এর মধ্যে ২০ দলীয় জোটের সভাও হবে। আগামী দুই সপ্তাহ বেগম জিয়া পর্যায়ক্রমে সকল অঙ্গসংগঠন, পেশাজীবী সংগঠন এবং বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে বসবেন। রায়কে ঘিরে একটি আন্দোলনের আয়োজন করতে চাইছে বিএনপি।

অন্যদিকে রায়ের তারিখ ঘোষণার পরপরই প্রধানমন্ত্রী ৮ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগকে রাজপথে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। রায়ের তারিখ জানার পরপরই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলের সাধারণ সম্পাদককে টেলিফোন করেন। আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো এ খবর নিশ্চিত করেছে।

যোগাযোগ করা হলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন ‘রায় আদালতের বিষয় এটা নিয়ে আমাদের কোন বক্তব্য নেই। কিন্তু আমাদের কাছে খবর আছে এই রায়কে ঘিরে বিএনপি সন্ত্রাস এবং নাশকতার আশ্রয় নিতে পারে। এ ধরনের কিছু করতে চাইলে তা কঠোর ভাবে দমন করা হবে।’

সংশ্লিষ্ট সূত্র গুলো বলেছে, রায় নিয়ে বিএনপি যেন কোনো নৈরাজ্য সৃষ্টি না করতে পারে সেজন্য আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক ভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে রায়ের দিন সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ ইতিমধ্যেই দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে আগামী সপ্তাহেই রায় পরবর্তী আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বৈঠক হবে। প্রশাসনিক প্রস্তুতির পাশাপাশি আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক প্রস্তুতিও শুরু করেছে। চলতি মাসেই প্রধানমন্ত্রী কেন্দ্রীয় কমিটির সভা ডাকবেন। আওয়ামী লীগের সকল অঙ্গ সংগঠনকে রায়ের দিন রাজপথে অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে বলেই জানা গেছে। আগামী সপ্তহেই ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ আওয়ামী লীগের মহানগরীর সভা আহ্বান করা হচ্ছে। এখানে বিএনপির সন্ত্রাস এবং নাশকতার রাজনৈতিক প্রতিরোধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেই জানা গেছে।

Top