আজ : মঙ্গলবার, ১২ই ডিসেম্বর ২০১৭ ইং | ২৮শে অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

শেখ হাসিনার বিকল্প নেই


সকল নিউজ আপডেট পেতে পেইজে লাইক দিন

আওয়ামী লীগের শাসনামলে সুশাসনের অভাব রয়েছে, রয়েছে দুর্নীতি। কিন্ত তারপরও শেখ হাসিনার বিকল্প দেখছেন না বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী এবং কূটনীতিকরা। বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে মাসিক সমন্বয় সভায় এরকম মনোভাবই প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি কূটনীতিকরা। একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে এ খবর জানা গেছে।

বাংলাদেশে কাজ করেন এমন বিদেশি কূটনীতিকরা নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা এবং তথ্য আদান-প্রদানের প্রথা চালু করে ২০০৬ সালে। সমন্বিত কার্যক্রম গ্রহণের লক্ষ্যে তারা মাসিক সভার আয়োজন করে। প্রভাবশালী ১৪টি দেশ এবং তিনটি সংস্থার প্রধানরা মূলত এরকম সভা করেন। বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় পালাক্রমে। একমাসে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বাসায়, তো অন্যমাসে জাপান রাষ্ট্রদূতের বাসায়। সর্বশেষ বৈঠক হয়েছে গত সপ্তাহে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতের বাসায়। যদিও বৈঠকে উপস্থিত একজন কূটনীতিক জানিয়েছেন, এবার মূলত রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে আলোচনাই ছিল আমাদের বসার প্রধান উদ্দেশ্য। তবে তিনি স্বীকার করেছেন, বেগম জিয়ার দেশে ফেরা, প্রধান বিচারপতির ছুটি ইত্যাদি প্রাসঙ্গিক বিষয় আলোচনায় এসেছে। তাঁর মতে, আমরা নিয়মিত বসে সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করি। আলোচনা করলে, তথ্য যাচাই সহজ হয়, করণীয় নির্ধারণেও সমন্বয় সাধন করা যায়।

ডিপ্লোম্যাটিক কোর্ডিনেশন মিটিং এ, বেগম জিয়ার দেশে ফেরার প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, দলটি এখনো ক্ষমতায় যাবার জন্য প্রস্তুত নয়। আগামী নির্বাচন যদি সংবিধানের আওতায় না হয়, তাহলে সেখানে বিএনপি অংশ নেবে কিনা তা নিয়ে অনেক কূটনীতিক সংশয় প্রকাশ করেন। তবে কূটনীতকরা তারেক জিয়ার ব্যাপারে এখনো অত্যন্ত নেতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন। বৈঠকে বলা হয়, তারেক জিয়াকে রেখে বিএনপি অত্যন্ত বিপজ্জনক একটি দল। তারেক জিয়ার প্রভাব এখন বিএনপিতে অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। বৈঠকে প্রধান বিচারপতির বিষয়ে আলোচনা হয়। কূটনীতিকরা মনে করেন, প্রধান বিচারপতির বেশ কিছু দুর্নীতি আছে। তবে, সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে এগুলোকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। কূটনীতিকরা মনে করেন, খুব শিগগিরই ‘সরকারের রাজনৈতিক চিন্তা’ অনুসারী দুজনকে আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে।

সভায় আওয়ামী লীগের সরকার পরিচালনার বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করা হয়। সভায় এখনো সুশাসনের অনেক ঘাটতি রয়েছে বলে অভিমত ব্যক্ত করা হয়। দুর্নীতিকে এখনো বাংলাদেশের প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তবে দুর্নীতি দমন কমিশনের সাম্প্রতিক কিছু পদক্ষেপের প্রশংসা করা হয় বৈঠকে।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে শেখ হাসিনার ভূমিকার প্রশংসা করেন সব কূটনীতিক। বাংলাদেশের উন্নয়নে তার নেতৃত্ব গুরুত্বপুর্ণ বলেও অনেক কূটনীতিকরা মন্তব্য করেন। দেশ পরিচালনায় তাঁর দৃঢ়তার কথাও বলেন কেউ কেউ। অধিকাংশই মনে করেন, শেখ হাসিনা এখন বাংলাদেশে একক ও প্রধান নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। এখন পর্যন্ত তার ব্যাপারে সাধারণ মানুষের মনোভাব ইতিবাচক। দেশের মানুষ তাঁর (শেখ হাসিনার) আন্তরিকতা নিয়ে সংশয়হীন। আওয়ামী লীগকে নিয়ে অনেক প্রশ্ন থাকলেও শেখ হাসিনার ব্যপারে মানুষ আশাবাদী। তবে কূটনীতিকরা আশঙ্কা করছেন, রোহিঙ্গা ইস্যু এবং নির্বাচন নিয়ে সংকট বাংলাদেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্থ করতে পারে।

Loading...

আরও পড়ুন...
Top