আজ : শনিবার, ১৬ই ডিসেম্বর ২০১৭ ইং | ২রা পৌষ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

শেখ হাসিনার চিন্তায় জনগণ, খালেদার সন্তান


সকল নিউজ আপডেট পেতে পেইজে লাইক দিন

এটিএম আমিন। সামরিক বাহিনীর মেজর জেনারেল ছিলেন। ২০০৯ সালে তাঁকে সেনাবাহিনী থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। সেনাবাহিনীতে তিনি সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের (ডিজিএফআই) এর মহাপরিচালক ছিলেন। ছিলেন আনসার, ভিডিপির প্রধান। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হত্যা মামলার অন্যতম আসামি। চাকরি থেকে অবসরের পর সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাড়ি জমান। আট বছর ধরে দুবাইতে আছেন। একটি বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন। এটিএম আমিন ওয়ান ইলেভেনের সময় আলোচিত নাম। সেনা সমর্থিত ড. ফখরুদ্দিন আহমেদের সরকারের অন্যতম নীতি নির্ধারক ছিলেন। তিনিই তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্যাট্রিসিয়া বিউটিনেসকে গিয়ে রাজনৈতিক সহিংসতায় সেনাবাহিনীর উৎকণ্ঠার কথা বলেন। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে গ্রেপ্তার, ব্যবসায়ীদের থেকে চাঁদা আদায় ইত্যাদি অনেক ঘটনার মূলহোতা মনে করা হয় এটিএম আমিনকে। আট বছর ধরে দুবাইতে থাকলেও বাঙ্গালিদের থেকে দূরে থাকেন। কারও সঙ্গে খুব একটা মেশেন না। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে কয়েকজন বাঙালি আগ বাড়িয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেন। আনানুষ্ঠানিক আলাপচারিতায় তিনি বেশ কিছু কথা বলেছেন।

এটিএম আমিন মনে করেন, বাংলাদেশে আর কোনো ওয়ান ইলেভেন হবে না। সাক্ষাৎকারীদের তিনি বলেন, ‘ রাজনৈতিক বিরোধ মীমাংসার জন্য রাজনীতিবীদরা সোনাবাহিনীর দ্বারস্থ হন। আবার সংকট মিটে গেলে সেনাবাহিনীর সদস্যরাই সবচেয়ে বড় ভিকটিম হয়। অনেকে চাকরি হারায়, অনেকে বিপদে পড়ে। এজন্যই সেনাবাহিনীর সদস্যরা এখন এসবে জড়াতে চায় না। বরং তাঁরা তাদের পেশাগত দায়িত্বেই ব্যস্ত থাকতে চায় ‘

জেনারেল আমিন বলেছেন, ‘শেখ হাসিনা আর যাই হোক, দেশের ভালো চান। মানুষকে নিয়ে ভাবেন। আর বেগম জিয়ার ভাবনা শুধুই তাঁর সন্তানকে নিয়ে।’

ওয়ান ইলেভেনে আটক দুই নেত্রীর সঙ্গেই তিনি সাক্ষাৎ করেছিলেন বলে আড্ডায় তিনি জানিয়েছেন। তার সঙ্গে সাক্ষাৎকারী বাঙালিরা জানিয়েছে, আমিন তাদের বলেছেন সাব জেলে দুই নেত্রীর সঙ্গেই তিনি আলাদা আলাদা ভাবে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে শেখ হাসিনা ছিলেন স্থির, দৃঢ়চিত্ত এবং আত্মবিশ্বাসী। অন্যদিকে বেগম জিয়া ছিলেন, অস্থির, বিধ্বস্ত এবং পরাজিত।

জেনারেল আমিন তাঁর আলাপচারিতায় শেখ হাসিনার সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতের স্মৃতিচারণ করে বলেছেন ‘ আমরা যখন সাবজেলে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে গেলাম, তখন তিনি হাসিমুখে আমাদের খেতে বললেন। তারপর তিনি বললেন, মানুষের জন্য কাজ করো। দেশের মানুষ ভালো নেই। তিনি দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমাদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন। অন্যদিকে খালেদা জিয়ার সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘বেগম জিয়া আমাদের দেখেই উত্তেজিত হলেন। তিনি আমাদের শাসিয়ে বললেন আমাদের দেখে নেবেন। এরপর তিনি কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন। আমাদের কাছে জানতে চাইলেন, ‘তাঁর সন্তানরা কেমন আছে? দেশে ফিরবেন কিনা, এমন এক প্রশ্ন করলেন, একজন, হতাশ স্বরে বললেন কীভাবে? দ্রুতই নিজেকে গুছিয়ে নিয়ে বললেন ‘স্যরি আমি যাই। বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে কথা বলতে ভয় পাই আবার কি বিপদে পরি।

আরও পড়ুন...
Top