আজ : সোমবার, ১৮ই জুন, ২০১৮ ইং | ৪ঠা আষাঢ়, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

এমন কর্মসূচির মানে কি?


দুর্নীতির দায়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারান্তরীণ হওয়ার পর দলটি দ্বিতীয় দফায় আবার কর্মসূচি দিয়েছে। সোমবার থেকে শুরু হওয়া কর্মসূচিগুলোর মধ্যে আছে দেশব্যাপী লিফলেট বিতরণ, গণস্বাক্ষর, মৌন মিছিল ও স্মারকলিপি। এমন কর্মসূচি নিয়ে বিএনপির তরুণ নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা প্রশ্ন তুলেছেন। বেগম জিয়ার মুক্তির দাবিতে এমন শিশুতোষ কর্মসূচির মানে কি?

বিএনপির একাধিক সূত্রে জানা গেছে, তরুণদের রাজপথ কাঁপানোর আন্দোলনের দাবি থাকলেও বিএনপির সিনিয়র নেতারা কর্মসূচি দিচ্ছেন লোকদেখানো ও দায়সারা। একে আবার অনেকে বেগম জিয়াহীন বিএনপির ব্যাকফুটে আসা হিসেবেও দেখছেন। তবে ব্যকফুটে এসে তারা কতটা লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে তা নিয়েও প্রশ্ন আছে।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ দুর্নীতি মামলার রায়ে পাঁচ বছর দণ্ডিত হওয়ার পরপরই কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয় বেগম জিয়াকে। গত সপ্তাহের বৃহস্পতিবারের ঘটনা হলেও দুদিন পর শনিবার কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি। ঘোষিত কর্মসূচি ছিল, সোমবার মানববন্ধন, মঙ্গলবার অবস্থান ধর্মঘট এবং বুধবার সকাল ৯টা থেকেবিকাল ৫টা পর্যন্ত অনশন। কোনো রাজনৈতিক দলের প্রধানের মুক্তির দাবিতে এমন নির্বিষ কর্মসূচি দেশের ইতিহাসে বিরল। তবে এমন কর্মসূচিও ছিল রাজধানীর প্রেসক্লাব এবং পল্টনের বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়েই সীমাবদ্ধ। ঢাকার বাইরে তেমন বড় কোনো কর্মসূচির কথা জানা যায়নি। আর বুধবারের অনশন কর্মসূচিতো সকাল ১০ টার দিকে শুরু হয়ে বেলা একটার দিকেই শেষ। অনেকে বলছেন, সকালের নাস্তার পর থেকে দুপুরের লাঞ্চ পর্যন্ত ছিল বিএনপির অনশন কর্মূসচি।

তিনদিনের ওই কর্মসূচি শেষে চারদিনের ব্রেক নিয়েছে বিএনপি। বৃহস্পতিবার দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী ঘোষিত কর্মসূচি শুরু হবে সোমবার থেকে। আর এই কর্মসূচিতে আছে দেশব্যাপী লিফলেট বিতরণ, গণস্বাক্ষর, মৌন মিছিল ও স্মারকলিপি।
বিএনএপির এমন কর্মসূচিতে দলটির তরুণ নেতৃত্ব এবং রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। বেগম জিয়াকে মুক্তির দাবিতেই যদি আন্দোলন হয় এমন শিশুতোষ কর্মসূচি কেন? এমন কর্মসূচি দিয়ে কোনো অর্জন সম্ভব নয়।

বিএনপির একাধিক তরুণ নেতা জানিয়েছেন, তিনদিনের নির্বিষ কর্মসূচি পালন করে এমনতিতেই মানুষের কাছে হাসির পাত্র হয়েছি। এখন আবার লিফলেট বিতরণ,গণস্বাক্ষর, মৌন মিছিল ও স্মারকলিপি দেওয়র মতো কর্মসূচি পালন করলে ইজ্জত বলে আর কিছু থাকবে না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রথম দফার দুর্বল অন্দোলনের পর আবার লোক দেখানো কর্মসূচি ঘোষণার মধ্যে দিয়ে বিএনপির কি বোঝাতে চাইছে? বেগম জিয়ার মুক্তির দাবিতে এসব আন্দোলন যে নয় তা একজন রাস্তার মুড়িওয়ালাও বুঝতে পারবেন। এই কর্মসূচি হলো লোক দেখানো। এখন প্রশ্ন হলো লোকদেখানো কর্মসূচির চেয়ে কোনো কর্মসূচি না দেওয়াই তো ভালো। লোক দেখানো কর্মসূচি দিয়ে আধুনিক ডিজিটাল জনগণকে বুঝ দেওয়া অসম্ভব। শিশুতোষ কর্মসূচি দিয়ে বিএনপি শিশুদের বোঝাতে পারবে কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ শিশু নয় বরং প্রাপ্তবয়স্ক সবাই মোটামুটি রাজনীতি সচেতন। এমন কর্মসূচি দলের দৈনদশারই প্রকশ। এখন প্রশ্ন হলো বিএনপি তাদের দলের দৈনতা আর কত প্রকাশ করবে?

Top