আজ : শুক্রবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৬ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

জেনে নিন কারাদণ্ড কখন নির্বাচনে অযোগ্য করে


জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচন ও যেকোনো আসনের উপনির্বাচন এবং স্থানীয় শাসনব্যবস্থার অধীন অনুষ্ঠিত নির্বাচনে একজন প্রার্থীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হতে হলে তাকে কিছু যোগ্যতার অধিকারী হতে হয়। অনুরূপভাবে কিছু অযোগ্যতার অধিকারী হলে একজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন না। যোগ্যতার অন্যতম শর্ত হলো- বাংলাদেশের নাগরিকত্ব এবং নির্ধারিত বয়স।

অপর দিকে, অযোগ্যতার অন্যতম শর্ত হলো- কোনো আদালত কাউকে নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে অন্যূন দুই বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন এবং তার মুক্তি লাভের পর পাঁচ বছরকাল অতিবাহিত না হয়ে থাকে।

উপরোল্লিখিত অযোগ্যতার বিষয়টি বাংলাদেশের সংবিধান এবং বিভিন্ন স্থানীয় শাসনব্যবস্থার অধীন প্রণীত আইন যথা- স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন-২০০৯, স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন-২০০৯, স্থানীয় সরকার (উপজেলা পরিষদ) অধ্যাদেশ-২০০৮ ও স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন-২০০৯ এ সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।

ইতঃপূর্বে বাংলাদেশের একজন সাবেক রাষ্ট্রপতি অস্ত্র মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হওয়া পরবর্তী কারান্তরীণ থাকাবস্থায় ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচনে পাঁচটি আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হয়ে বিজয়ী হন। সে সময় বিরোধীপক্ষ তার নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হওয়া বিষয়ে আপত্তি উত্থাপন করলে যে যুক্তির ভিত্তিতে তাকে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশ নেয়ার

সুযোগ দেয়া হয় তা হলোÑ ক. নিম্ন আদালতে দেয়া আদেশের বিরুদ্ধে তার আপিল হাইকোর্ট বিভাগে চলমান থাকায় তিনি চূড়ান্তভাবে দণ্ডিত হয়েছেন এ কথাটি বলার অবকাশ নেই, খ. অবৈধ অস্ত্র রাখার অপরাধে নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধ নয়।

প্রথমোল্লিখিত যুক্তিটি আমাদের দেশসহ বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত এবং আমাদের দেশসহ পৃথিবীর সর্বত্র আপিল বিচার চলমান গণ্যে সর্বোচ্চ আদালতে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত দণ্ডাদেশের কারণে কোনো ধরনের অযোগ্যতাকে বারিত বিবেচনা করা হয় না। দ্বিতীয় যুক্তিটির বিষয়ে দুই ধরনের অভিমত পাওয়া যায়।

এর একটি হলো- অবৈধ কাজ করার অভিপ্রায়ে অবৈধ অস্ত্র রাখা হলে সেটি নৈতিক স্খলনকে আকৃষ্ট করে। আর অপরটি হলো- অনিচ্ছাকৃত ভুলের কারণে যথাসময়ে বৈধ অস্ত্রের নবায়ণ না করা অথবা উপহার হিসেবে পাওয়া অস্ত্র বিধি অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা না দেয়া বা ওই অস্ত্রের অনুমতিপত্র (লাইসেন্স) গ্রহণ না করা হলে তা নৈতিক স্খলনকে আকৃষ্ট করে না।

নবম সংসদ নির্বাচনকালীন এবং এর পরবর্তী স্থানীয় শাসনব্যবস্থার অধীন পরিচালিত কিছু নির্বাচনের ক্ষেত্রে দণ্ডাদেশ বিষয়ে সংবিধান ও স্থানীয় শাসনব্যবস্থার অধীন পরিচালিত নির্বাচনী আইনগুলো যে অযোগ্যতার বিষয় উল্লেখ রয়েছে সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশন অভিমত ব্যক্ত করে যে, দণ্ডাদেশ পরবর্তী আপিল চলমান থাকাবস্থায় আপিল আদালতের দণ্ডাদেশের কার্যকারিতা স্থগিত করা না হলে অযোগ্যতা বহাল থাকবে।

এ বিষয়ে আমাদের উচ্চাদালতের দু’টি ভিন্নধর্মী সিদ্ধান্ত রয়েছে। এর একটি- আপিল চলমান থাকলে অযোগ্যতা রহিত হবে, আর অপরটি- শুধু আপিল চলমান থাকলেই অযোগ্যতা রহিত হবে না, এর জন্য দণ্ডাদেশের কার্যকারিতা স্থগিত করার আবশ্যকতা রয়েছে।

বিচারিক আদালতে যেকোনো মামলায় দণ্ডাদেশ দেয়ার পর ওই আদালত করণিক বা গাণিতিক ভুল ব্যতীত রায়ের কোনো ধরনের পরিবর্তনের জন্য অযোগ্য।

রায়ে সাজা এক বছর অবধি হলে বিচারিক আদালত দণ্ডিত ব্যক্তির উচ্চতর আদালতে আপিল দায়ের সাপেক্ষে তাকে জামিন মঞ্জুর করতে পারেন। দণ্ডাদেশ এক বছরের অধিক হলে দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে আপিল আদালত থেকে জামিন গ্রহণ করতে হয়।

দায়রা জজ বা অতিরিক্ত দায়রা জজ কোনো মামলায় দণ্ডাদেশ প্রদান করলে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আপিল দায়ের করতে হয়। আপিল দায়ের পরবর্তী আপিল আদালতে জামিন দেয়ার বিষয়ে যেসব বিষয় সহায়ক হিসেবে দেখা হয় তা হলো- সাজার মেয়াদ।

সচরাচর দেখা যায় সাজার মেয়াদ পাঁচ বছর পর্যন্ত হলে হাইকোর্ট বিভাগ মামলার গুণাগুণের দিকে না দেখে নথি তলবান্তে জামিন বিষয়ে প্রাথমিক শুনানিকালে দণ্ডিত ব্যক্তিকে জামিন দিয়ে থাকেন।

হাইকোর্ট বিভাগের কিছু কিছু বিচারক যারা জামিন বিষয়ে কিছুটা উদার, এদের ক্ষেত্রে দেখা যায় ১০ বছর অবধি সাজার ক্ষেত্রে জামিন দেয়ার নমনীয় মনোভাব পোষণ করেন। আবার এমন দু-একজন বিচারক রয়েছেন যারা যাবজ্জীবন দণ্ডাদেশের ক্ষেত্রেও বিশেষ বিবেচনার সুযোগ থাকলে জামিন দানে নমনীয় অবস্থান নেন।

উচ্চাদালতে আপিল দায়ের পরবর্তী জামিন শুনানিকালে মামলার নথি পর্যালোচনা শেষে বিচারকের কাছে যখন দৃষ্টিগোচর হয় যে, দণ্ডিত ব্যক্তি নি¤œ আদালতে মামলাটি বিচারাধীন থাকাবস্থায় পূর্বাপর জামিনে ছিলেন এবং সে সময় তিনি কখনো জামিনের অপব্যবহার করেননি এ রূপ ক্ষেত্রে আপিল আদালত সেটিকে যুক্তি হিসেবে ধরে কোনো ধরনের অতিরিক্ত ব্যাখ্যায় না গিয়ে সাধারণত জামিন মঞ্জুর করে থাকে।

অনেক সময় দেখা যায় আপিল আদালত দণ্ডাদেশের কার্যকারিতা স্থগিত না করে আপিল চলমান থাকাবস্থায় জামিন মঞ্জুর করে থাকে। এরূপ জামিনের ক্ষেত্রে দণ্ডাদেশ স্থগিত বিবেচিত হবে কি না এ বিষয়েও দু’টি মত পাওয়া যায়। এর একটি হলো- আপিল আদালতে জামিন মঞ্জুর হলে দণ্ডাদেশ আপনাআপনি স্থগিত হয়ে যায়।

এর স্বপক্ষে তাদের যুক্তি হলো- একজন দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি জামিনে থাকাকালে তার দণ্ড গণনার সুযোগ নেই। এরূপ দণ্ডিত ব্যক্তির নিম্ন আদালতের দেয়া সাজা আপিল আদালতে আপিল নিষ্পত্তিকালে বহাল থাকলে দণ্ডিত ব্যক্তির কারাদণ্ডের অবশিষ্টাংশ ভোগ পরবর্তী মুক্তি পাওয়ার অবকাশ ঘটে।

উদাহরণস্বরূপ বলা যায়- নিম্ন আদালতে পাঁচ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি এক মাস কারা ভোগের পর আপিল আদালত নিম্ন আদালতের সাজা বহাল রাখলে সে ক্ষেত্রে দণ্ডিত ব্যক্তিকে অবশিষ্ট চার বছর ১১ মাস সাজা ভোগ করতে হবে।

অপরটি হলো, আপিল আদালত জামিনে মুক্তি দিলেও জামিন আদেশ দিয়ে অথবা নথি তলবের আদেশ দিয়ে অথবা আপিল চলমান থাকাবস্থায় কোনো আদেশ দিয়ে সাজার কার্যকারিতা স্থগিত না করলে দণ্ডিত ব্যক্তির নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হওয়া বিষয়ক অযোগ্যতা রহিত হয় না।

তবে সার্বিক বিবেচনায় আপিল আদালত কর্তৃক জামিন মঞ্জুর হলে সাজার কার্যকারিতা ও সাজার গণনা নিজে নিজে স্থগিত হয়ে যায় এ ধারণাটি যুক্তিযুক্ত।

সম্প্রতি আমাদের দেশের একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারার অধীন দোষী সাব্যস্ত করে দায়রা জজের মর্যাদাসম্পন্ন বিচারিক আদালত পাঁচ বছরের দণ্ড দিলে তিনি আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হতে পারবেন কি না এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনার সূত্রপাত ঘটে।

দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী তিন মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন ছিলেন। তিনি দেশের বৃহৎ দু’টি রাজনৈতিক দলের একটির দীর্ঘদিন যাবৎ শীর্ষ পদে আসীন রয়েছেন।

তা ছাড়া তিনি দেশের একজন সাবেক প্রয়াত রাষ্ট্রপতির সহধর্মিণী। এসব বিষয় বিবেচনায় নেয়া হলে তিনি বিশেষ মর্যাদায় সমাসীন।

একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ প্রমাণ করতে হলে অপরাধটি যেসব উপাদান সমন্বয়ে গঠিত অপরাধের মধ্যে তার পুরোপুরি উপস্থিতি অত্যাবশ্যক।

অপরাধমূলক বিশ্বাস ভঙ্গ দু’টি উপাদান সমন্বয়ে গঠিত। এর একটি- একজন ব্যক্তির কাছে কোনো সম্পদ গচ্ছিত রাখা এবং অপরটি সম্পদ গচ্ছিত থাকাবস্থায় ব্যক্তি অসদুপায়ে তা আত্মসাৎ অথবা তা ব্যক্তিগত ব্যবহারে রূপান্তর।

দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারার অভিযোগের ক্ষেত্রে গচ্ছিত সম্পদের সাময়িক স্থানান্তর অপরাধ থেকে নিবৃত্ত না করলেও যে ক্ষেত্রে গচ্ছিত অর্থ বিনষ্ট না হয়ে বা কমে না গিয়ে বরং বর্ধিত হয় সে ক্ষেত্রে তা সহানুভূতিশীল দৃষ্টিভঙ্গিকে আকৃষ্ট করে।

যেকোনো ফৌজদারি মামলায় সাজা দেয়া হলে সাজার আইনগত ও নৈতিক ভিত্তি দৃঢ় হতে হয়। আমাদের দেশ থেকে বিগত একদশকে পাঁচ লাখ হাজার কোটি টাকার অধিক টাকা বিদেশে পাচার হয়ে গেছে মর্মে গ্লোবাল ফিন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি নামের আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে।

তা ছাড়া বিগত বছরগুলোতে আমাদের কেন্দ্রীয় ব্যাংক তথা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে আট হাজার কোটি টাকার ঊর্ধ্বে, রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক সোনালী, জনতা ও বেসিক ব্যাংক থেকে যথাক্রম চার হাজার, পাঁচ হাজার ও আট শ’ কোটি টাকা লোপাটের তথ্য উদঘাটিত হয়েছে।

অর্থ লোপাটের এসব ঘটনার সাথে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর অপরাধমূলক বিশ্বাস ভঙ্গ কোনোভাবেই তুল্য নয়। কিন্তু নেহায়েত রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে যখন গুরুতর অপরাধ লঘুতর অপরাধের কাছে ম্লান হয়ে যায়, তখন দেশের সাধারণ মানুষের দুঃখ বা আক্ষেপ প্রকাশ ছাড়া আর কিই-বা করার থাকে।

আলোচ্য মামলাটিতে দেখা যায়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ১ নম্বর অভিযুক্ত ব্যক্তি হওয়া সত্ত্বেও তার বিশেষ অবস্থান বিবেচনায় তার প্রতি সহানুভূতিশীল দৃষ্টিভঙ্গি প্রদর্শনপূর্বক অপরাপর পাঁচজন অভিযুক্তের চেয়ে তাকে অর্ধেক কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারার অধীন অপরাধমূলক বিশ্বাস ভঙ্গের সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা ১০ বছর পর্যন্ত সশ্রম অথবা বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড।

স্বভাবতই প্রশ্নের উদ্রেক হয়, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সর্বোচ্চ সাজার বিধানের ক্ষেত্রে যেখানে সহানুভূতিশীল দৃষ্টিভঙ্গির পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষ বিবেচনায় প্রধান অভিযুক্ত ব্যক্তিকে অপরাপর অভিযুক্তদের চেয়ে অর্ধেক দণ্ড দেয়া হয়-

সে ক্ষেত্রে তিনি মহিলা, তার বয়স ৭২ বছরের ঊর্ধ্বে এবং তিনি বিভিন্ন রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে একান্তই যদি সাজা দেয়ার অবকাশ ঘটে থাকে, সে ক্ষেত্রে তাকে এক বছরের নিম্নের সাজা দিয়ে বিচারিক আদালত জামিনে মুক্তি দিলে ন্যায়বিচার কি পরাভূত হতো, নাকি সমুন্নত হতো- সেটি আজ দেশের সচেতন মানুষের কাছে বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে।

৪০৯ ধারার অপরাধ জামিন অযোগ্য। জামিন অযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে জামিন দেয়ার সময় যে বিষয়গুলো বিবেচনায় নেয়া হয় তা হলো- অভিযুক্ত ব্যক্তি অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত এ বিষয়ে বিশ্বাসযোগ্য কারণের ঘাটতি রয়েছে, অথবা অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু, নারী, রোগাক্রান্ত বা বৃদ্ধ। বিচারিক আদালত জামিন দেয়ার সময় যেসব বিষয় বিবেচনায় নেয়, আপিল আদালতের বিবেচনার পরিধি আরো অধিক বিস্তৃত।

অলোচ্য মামলায় আপিল আদালতে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর জামিন না হওয়ার চেয়ে জামিন হওয়ার পক্ষের আইনগত ও নৈতিক অবস্থান দৃঢ় বিবেচিত হয়। এ অবস্থায় জামিনপ্রাপ্ত হলে মামলাটি চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তা যে তার নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্রে অন্তরায় হিসেবে দেখা দেবে না, এমনটি প্রতিভাত। লেখক : সাবেক জজ, সংবিধান, রাজনীতি ও অর্থনীতি বিশ্লেষক

Top