আজ : শুক্রবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৬ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

বিএনপির নয়া কৌশল


বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কারাবাস আরও দীর্ঘায়িত হবে ধরে নিয়ে নতুন কৌশল খুঁজছে বিএনপি। এ বিষয়ে এরই মধ্যে দলের সিনিয়র নেতারা একাধিকবার একান্তে বৈঠক করেছেন। এখন পর্যন্ত দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যদের যৌথভাবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হলেও গঠনতান্ত্রিক কিছু বাধ্যবাধকতা চিন্তায় ফেলেছে তাদের।

বিএনপির একাধিক সিনিয়র নেতার সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা নিজেরাও আসলে ধারণা করতে পারছেন না যে বেগম খালেদা জিয়াকে কত দিনের মধ্যে কারাগার থেকে মুক্ত করে আনা সম্ভব হবে। তাছাড়া খালেদা জিয়ার কারাবাস প্রলম্বিত করতে সরকার নতুন আর কোনো কৌশল নেয় কিনা। সেক্ষেত্রে খালেদা জিয়া আর বেশি দিন জেলে থাকলে দলীয় কর্মকাণ্ডে বিরূপ প্রভাবের আশঙ্কাও পেয়ে বেসেছে বিএনপি নেতাদের মধ্যে।

বেগম খালেদা জিয়া জেলে যাওয়ার পর থেকে দলীয় ঐক্য ধরে রাখা এবং নেত্রীকে দ্রুত জেল থেকে বের করে আনার দিকেই নেতারা বেশি মনোযোগী। এখন পর্যন্ত দলের ঐক্যে তেমন কোনো নেতিবাচক দৃশ্যমান সংকট দেখা না দিলেও নেতারা সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার কৌশল নিয়েছেন। এরই মধ্যে দলীয় মহাসচিবসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যরা অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করলেও আনুষ্ঠানিক কোনো বৈঠক করা তাদের সম্ভব হচ্ছে না।

বিএনপির দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী চেয়ারপারসন বা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছাড়া কেউ স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডাকতে পারেন না। সেক্ষেত্রে ভবিষ্যতে সাংগঠনিক কোনো বড় সিদ্ধান্ত নিতে গেলে দলীয় গঠনতন্ত্রের সীমাবদ্ধতায় পড়বে বিএনপি। এমনকি নির্বাচনী প্রার্থী মনোনয়নের দরকার হলেও তা তাদের পক্ষে করা সম্ভব হবে না। কারণ বিএনপির স্থায়ী কমিটিই দলের মনোনয়ন বোর্ড হিসেবে বিবেচিত হয়।

সিনিয়র নেতারা জানান, সার্বিক পরিস্থিতিতে আন্দোলন কৌশল, দল পরিচালনা এবং ঐক্য ধরে রাখতে স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা তৈরি করতে চাইছেন তারা।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য জমিরউদ্দিন সরকার বলেন, রেকর্ড নিম্ন আদালত থেকে আসতে যে সময় লাগে সে পর্যন্ত তো অপেক্ষা করতেই হবে। সাধারণত ১৫ দিনে এটা প্রসেস হয়ে যায়।

তিনি বলেন, স্থায়ী কমিটি তো সব সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। পরিকল্পনা তো পরিবর্তন হবেই। উনার (বেগম খালেদা জিয়ার) জামিন পেতে দেরি হলে তো আমাদের চিন্তা-ভাবনার পরিবর্তন করতে হবেই। চিন্তার পরিবর্তন হবে। গতিধারা তো এক রকম থাকবে না, গতিধারা চলমান হবে। উনি জেলে যতদিন আছেন ততদিন কী কী করা যায় সেটার জন্য নতুন আঙ্গিকে চিন্তাধারা করতে হবে।

তিনি বলেন, স্থায়ী কমিটি তো সপ্তাহে দুই তিন দিন করেই বসা হয়।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, সময়ে সব কিছুই আনুষ্ঠানিক প্রেস ব্রিফিং করে ঘোষণা দেওয়া হবে। আমরা সবাই মিলে বসে পরামর্শ করে এখন কাজগুলো করি। এটা সাবাই এখন জানে।

তিনি বলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে এখন তো আর স্থায়ী কমিটির সভা হবে না। কারণ চেয়ারপারসনকে স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডাকতে হয়। এখন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সে যদি দেশে থাকতো তাহলে স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডাকতে পারতো।

তিনি বলেন, আমাদের স্থায়ী কমিটির সভা ডাকার বা করার সাংবিধানিক এবং গঠনতান্ত্রিক এখতিয়ার নেই। তাই আমরা অনানুষ্ঠানিকভাবে পরামর্শ করে যৌথ সিদ্ধান্ত নিয়ে দল চালাচ্ছি।

এ অবস্থা প্রলম্বিত হলে দল চালাতে ভবিষ্যতে সমস্যা হবে কি না জানতে চাইলে ড. মোশাররফ বলেন, সেটা তো প্রলম্বিত হলে আমরা আলোচনা করব, আলোচনা করে আমরা আমাদের কৌশল ঠিক করব।

Top