আজ : সোমবার, ২১শে মে, ২০১৮ ইং | ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

রাষ্ট্রপতি পদ ভিক্ষা চান এরশাদ


জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ প্রধানমন্ত্রীর কাছে রাষ্ট্রপতির পদ ভিক্ষা চেয়েছেন। এরশাদের দুজন প্রতিনিধির মাধ্যমে জীবনের শেষ ইচ্ছা হিসেবে আবার রাষ্ট্রপতি হবার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এরশাদ দুই প্রতিনিধিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করে তাঁর (এরশাদের) আকাঙ্ক্ষার কথা বলতে বলেছেন। উল্লেখ্য, আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে বলে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক গত সোমবার জানিয়েছেন।

আইনমন্ত্রীর ঘোষণার পরপরই সাবেক স্বৈরাচার আবারও রাষ্ট্রপতি হবার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ জাতীয় পার্টির দুজন নেতাকে এরশাদ বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীকে বলো আমাকে রাষ্ট্রপতি বানাতে। আমি তাঁকে আবার ক্ষমতায় বসিয়ে দেব।’ এরশাদও বলেছেন,‘আমার বয়স হয়েছে, মারা যাব আর বেঁচে থাকলে রাষ্ট্রপতি হিসেবে অবসরে যাব। এটাই আমার ইচ্ছা।’ উল্লেখ্য, ১৯৮২’র ২৪ মার্চ সেনাপ্রধান হিসেবে এরশাদ সামরিক শাসন জারি করে অবৈধ ভাবে ক্ষমতা দখল করেন। ১৯৯০ এর ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত এরশাদ বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ছিলেন। এরশাদই বাংলাদেশের দীর্ঘতম সময়ের রাষ্ট্রপ্রধান। এরশাদ যখন রাষ্ট্রপ্রধান ছিলেন তখন বাংলাদেশ রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা ছিল। রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ছিল সর্বময়। কিন্তু এখন সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি পদ অলংকারিক। তারপরও কেন এরশাদ রাষ্ট্রপতি হতে চান? এ ব্যপারেও জাতীয় পার্টির ওই দুই নেতার কাছে ব্যাখ্যা দিয়েছেন এরশাদ। যেভাবে তাঁকে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরে যেতে হয়েছিল, তার কষ্ট আজও এরশাদ হয়ে বেড়ান বলে জানিয়েছেন। এজন্য রাষ্ট্রপতি হিসেবেই এরশাদ রাজনীতি থেকে অবসরে যেতে চান।

এরশাদকে রাষ্ট্রপতি করা হলে আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টির নিরঙ্কুশ সমর্থন পাওয়া যাবে, এমন টোপও এরশাদ আওয়ামী লীগকে দিত চান। এরশাদ মনে করছেন, তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসতে মরিয়া আওয়ামী লীগ হয়তো এরশাদের প্রস্তাবে রাজি হবে। কিন্তু আওয়ামী লীগের একাধিক শীর্ষ নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, তারা এটাকে ‘হাস্যকর’ এবং ‘অবাস্তব’ চিন্তা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। আওয়ামী লীগের একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা বলেছেন, ‘এরশাদকে রাষ্ট্রপতি করার কোনো চিন্তা আমাদের নেই।’ ওই নেতা আরও বলেন, ‘শুধু এরশাদ কেন দলের বাইরে কাউকে রাষ্ট্রপতি করার পরিকল্পনা আওয়ামী লীগের নেই।

Top