আজ : মঙ্গলবার, ১৭ই জুলাই, ২০১৮ ইং | ২রা শ্রাবণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

দুঃখের কথা নেত্রী ছাড়া কাউকে বলতে চাই না


২৬ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সফর। কিন্তু আওয়ামী লীগের মাঠপর্যায়ে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে এই সাংগঠনিক সফর কোনো চাঞ্চল্য সৃষ্টি করতে পারেনি। তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা চান শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলতে, শেখ হাসিনার সরাসরি দিক নির্দেশনা। অন্য নেতাদের উপর তাঁর আস্থা নেই। আওয়ামী লীগের একাধিক তৃণমূলের নেতার সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য পাওয়া গেছে। তৃণমূলের একাধিক নেতা বলেছেন,’শেখ হাসিনাই আমাদের নেতা, তিনিই আমাদের সব। দুঃখের কথা আর কাউকে বলতে চাইনা।‘

শুক্রবার থেকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা ১৫টি দলে ভাগ হয়ে দেশব্যাপী সাংগঠনিক সফর শুরু করেছে। এই সাংগঠনিক সফরের প্রধান উদ্দেশ্য হলো তৃণমূলে কোন্দল মেটানো। পাশাপাশি সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রচারণা এবং নির্বাচনের একটি জোয়ার সৃষ্টি। কিন্তু তৃণমূলের নেতারা কেন্দ্রীয় নেতাদের পেয়ে খুশি নন। তৃণমূলের একজন নেতা বলেছেন, ‘কেন্দ্রীয় নেতাদের কী বলব, এরা আমাদের সমস্যা কি বোঝে?’ অন্য একজন নেতা বলেছেন, ‘এরা তো মন্ত্রী এমপিদের পক্ষেই কথা বলবে। মন্ত্রী এমপিদের চামচারা তাঁদের বড় মাছ খাওয়াবে, এটা সেটা দেবে, তারপর তাঁরা তাদের পক্ষেই কথা বলবে।’ তৃণমূলের প্রবীন একজন নেতা বলেছেন,‘কেন্দ্রীয় কমিটির সাংঠনিক সম্পাদকদের তো পাওয়াই যায় না, এদের অনেকের এলাকার রাজনীতি সম্পর্কে কোনো ধারনাই নেই।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের অবশ্য বলেছেন, ‘তৃণমূলই হলো আওয়ামী লীগের প্রাণ। তাঁদের সমস্যা আমরা শুনব, এটা নেত্রীকে বলব, প্রয়োজনে নেত্রীও তাঁদের সঙ্গে কথা বলবেন।’ তবে আওয়ামী লীগের তৃণমূলে সাধারণ সম্পাদককে নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে। একজন তৃণমূলের নেতা বলেছেন, ‘আগে সাধারণ সম্পাদককে পাওয়া যেত না, কিন্তু যখন তাঁকে পেতাম মন ভরে যেত। খুব ভালো ব্যবহার করতেন। আর এখন, কাদের সাহেব তো মুই কে হনুরে। আমাদের সঙ্গে চাকর-বাকরের মতো ব্যবহার করে, গালাগালি করে।’

তবে এই সবকিছুর পরও এই সাংগঠনিক সফরে তৃণমূলের সমস্যার একটি চিত্র পাওয়া যাবে। বিশেষ করে তৃণমূলের সঙ্গে মন্ত্রী-এমপিদের সমস্যাগুলো সম্পর্কে একটা স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। এগুলো নির্বাচনের আগে কাজে লাগবে বলেও কেন্দ্রীয় নেতারা মনে করছেন।

আগামী ৩০ জানুয়ারি থেকে আওয়ামী লীগ আনুষ্ঠানিক ভাবে তার নির্বাচনী প্রচারাভিযান শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিলেট হজরত শাহ জালাল (রা.) এবং হজরত শাহ পরান (রা.) মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করবেন। ওই দিন সিলেটে তিনি জনসভায় ভাষণ দেবেন।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা জানিয়েছেন, দলের সভাপতি পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে সফর করবেন এবং তৃণমূলের সঙ্গে কথা বলবেন। এই সাংগঠনিক সফর নয় বরং শেখ হাসিনার সফর নিয়েই আশান্বিত তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। তারা বলছেন, ‘শেখ হাসিনা ছাড়া আমাদের দুঃখ কেউ বুঝবে না।’

Top