আজ : মঙ্গলবার, ১৯শে জুন, ২০১৮ ইং | ৫ই আষাঢ়, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

যেখানে পথ খুঁজে পায় স্বপ্ন


তখন ক্রিকেট বিশ্বে চলছিল ভিভ রিচার্ডস, ইমরান খান ও অ্যালান বোর্ডারদের মতো ক্রিকেটারদের রাজত্ব। এর মধ্যে, ১৯৮৮ সালে অনেকটা নীরবেই অস্ট্রেলিয়ায় শুরু হয় একটি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট। তারপর অবশ্য অনেকদিন বন্ধ থাকে। ঠিক দশ বছর পর ১৯৯৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় বসে টুর্নামেন্টটির দ্বিতীয় আসর। এর পর দুই বছরের নিয়মিত বিরতিতে সব মিলে অনুষ্ঠিত হয়েছে ১১টি আসর। এরই মধ্যে টুর্নামেন্টটি হয়ে উঠেছে ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তারকাদের জ্বলে ওঠার ক্ষেত্র। গত ৩০ বছরে ব্রায়ান লারা, বিরাট কোহলি, ক্রিস গেইল, হাশিম আমলার মতো মহাতারকারা উঠে এসেছেন এই টুর্নামেন্ট থেকে। বলা হচ্ছে, অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেটের কথা। ১৩ জানুয়ারি শনিবার নিউজিল্যান্ডে শুরু হচ্ছে টুর্নামেন্টটির ১২তম আসর।

১৯৮৮ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের প্রথম আসরেই বিশ্ব পায় ক্রিকেটের যুবরাজ ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান লারাকে। ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলি উঠে আসেন ২০০৮-এর আসর থেকে। বাংলাদেশের মোহাম্মদ আশরাফুল, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহীম ও তামিম ইকবালের মতো ক্রিকেটাররা পারফর্ম করে এসেছেন অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ থেকে। এমনকি দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত ১৯৯৮ সালের দ্বিতীয় আসরে প্রথমবার অংশগ্রহণ করেই যুবা টাইগাররা প্লেট চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলো। ২০০৪ সালেও প্রথমবারে মতো বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে একই কৃতিত্ব অর্জন যুবারা। তবে ২০১৬ সালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনের ১১তম আসরে তৃতীয় স্থান অর্জন এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সেরা সাফল্য। সেবার দ্বিতীয়বারের মতো অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ হয়েছিলো বাংলাদেশ।

তবে এবার ১২তম আসরের অপরিচিত কন্ডিশনে কিছুটা খারাপ অবস্থার মধ্য দিয়েই যাচ্ছেন যুবা টাইগাররা। ১৩ জানুয়ারি নামিবিয়ার বিপক্ষের ম্যাচ দিয়ে এবারের মিশন শুরু করবে সাইফ হাসানের দল। তবে ওয়ার্ম আপ ম্যাচে খুব ভালো করতে পারেনি তারা। দুইটি প্রস্তুতি ম্যাচের একটি বৃষ্টির কারণে ভেস্তে গিয়েছিলো, অন্যটিতে আফগানিস্তানের কাছে হেরে যায়। তারপরও সারা বিশ্বের ২০০টি দেশে এ টুর্নামেন্ট সম্প্রচারিত হবে। ঘরে-বাইরের ক্রিকেটপ্রেমীদের চোখ থাকবে আগামী দিনের তারকাদের ওপর।

বাংলাদেশের জাতীয় দলের বর্তমান ৫ বড় তারকার ৪ জনই উঠে এসেছেন ২০০৪ ও ২০০৬ এর আসর থেকে। মাহমুদুল্লাহ খেলেছিলেন ২০০৪ এর আসরে। আর ২০০৬ এর আসরে খেলেছিলেন টাইগারদের বর্তমান অধিনায়ক সাকিব, সাবেক অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম ও টেস্টে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক তামিম।

২০১২ সালে অস্ট্রেলিয়ায় এই বিশ্বকাপের নবম আসরে বাংলাদেশের ওপেনার এনামুল হক বিজয় দুইটি সেঞ্চুরি ও একটি হাফ সেঞ্চুরি মিলিয়ে করেছিলেন ৩৬৫ রান। যা ওই আসরের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের রেকর্ড ছিল। এক আসরে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডটি অবশ্য ভারতের বাঁহাতি ওপেনার শিখর ধাওয়ানের। বাংলাদেশের আসরে ২০০৪ সালে তিনি করেছিলেন ৫০৫ রান।

২০০২ সালে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ডোনোভা প্যাগনের ১৭৬ রানের ইনিংসটি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের রেকর্ড। এক আসরে সব চেয়ে বেশি উইকেট শিকারির তালিকায় আছেন আরেক যুবা-টাইগার বাঁহাতি স্পিনার এনামুল হক জুনিয়র। ২০০৪ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে তিনি নিয়েছিলেন ২৭ উইকেট। ২০০২ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার লেগ স্পিনার জিভান মেন্ডিসের ১৯ রানে ৭ উইকেট টুর্নামেন্টের সেরা বোলিং পারফরম্যান্স।

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলা আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশের ২৪ জন ব্যাটসম্যান নিজেদের অভিষেক টেস্টে সেঞ্চুরি করেছিলেন। এর মধ্যে ৭ জনই এসেছেন ২০০২ এর আসর থেকে। এরা হলেন মাইকেল ক্লার্ক, শন মার্শ, মোহাম্মদ আশরাফুল, তৌফিক ওমর, জোনাথন ট্রট, জ্যাক রুডলফ ও হ্যামিল্টন মাসাকাদজা।

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলা ১৩ জন বোলার নিজেদের টেস্ট অভিষেকে ৫ উইকেট নিয়েছেন। বাংলাদেশের তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান ও দক্ষিণ আফ্রিকার কাগিসো রাবাদা নিজেদের ওয়ানডে অভিষেক ম্যাচে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন।

অস্ট্রেলিয়া ও ভারত সর্বোচ্চ ৩বার করে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জিতেছে। অস্ট্রেলিয়া ১৯৮৮, ২০০২ ও ২০১০ এবং ভারত ২০০০, ২০০৮ ও ২০১২ সালে চ্যাম্পিয়ন হয়। এছাড়া পাকিস্তান ২০০৪ ও ২০০৬ সালে এবং ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ যথাক্রমে ১৯৯৮, ২০১৪ ও ২০১৬ সালে শিরোপা ঘরে তুলেছিল।

এই ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ...
Top