আজ : শুক্রবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৬ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

শিক্ষামন্ত্রীর চোখে প্রশ্ন ফাঁসের ৬ বড় কারণ


চলমান এসএসসি পরীক্ষায় এখন পর্যন্ত ১১টি বিষয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে সর্বত্র তোলপাড় শুরু হয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে তিন মন্ত্রীর উপস্থিতিতে যৌথ জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এতে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়ে লিখিত পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, পাবলিক পরীক্ষাসমূহে লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থী কয়েক হাজার কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে থাকে। পরীক্ষা গ্রহণের সঙ্গে প্রায় লক্ষাধিক শিক্ষক/কর্মচারী/কর্মকর্তা জড়িত থাকেন।

নাহিদ বলেন, সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা গ্রহণে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের প্রায় সকল বিভাগের কর্মকর্তা এবং পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কাজে বিভিন্ন বিভাগের সম্পৃক্ততা রয়েছে। শুধু শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একক প্রচেষ্টায় সুষ্ঠুভাবে পাবলিক পরীক্ষা গ্রহণ কষ্টসাধ্য।

তিনি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ করতে হলে এর উৎস এবং পরীক্ষা গ্রহণ পদ্ধতির ত্রুটিসমূহ চিহ্নিত করা প্রয়োজন। প্রশ্নপত্র ফাঁসের কয়েকটি বড় ক্ষেত্র রয়েছে। সেগুলে হলো-

১. বিজি প্রেসে প্রশ্ন কম্পোজ, এডিট, প্রিন্টিং ও প্যাকেজিং পর্যায়ে প্রায় ২৫০ জনের মত কর্মী প্রশ্ন দেখতে পারে। তারা প্রশ্ন কপি করতে না পারলেও স্মৃতিতে ধারণ কারা অসম্ভব ব্যাপার নয়। ৩/৪ জনের একটি গ্রুপের পক্ষে এভাবে প্রশ্ন ফাঁস করা সম্ভব হতে পারে।

২. নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট/দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মাধ্যমে ট্রেজারি/ নিরাপত্তা হেফাজত হতে প্রশ্ন গ্রহণ করে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছানোর নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, অনেক কেন্দ্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করছেন না মর্মে অভিযোগ রয়েছে।

৩. অতিরিক্ত কেন্দ্র অনুমোদন দেয়া হয়েছে, যার ব্যবস্থাপনা করার মত পর্যাপ্ত জনবল নেই; তাছাড়া ভেন্যুগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মূল কেন্দ্র হতে দূরবর্তী স্থানে অবিস্থিত। ফলে ৩০ মিনিট সময়ের অধিক পূর্বে কেন্দ্রসচিবগণ প্রশ্ন খুলতে বাধ্য হচ্ছেন।

৪. পরীক্ষার্থী কিংবা পরীক্ষার দায়িত্বপ্রাপ্তদের স্মার্টফোন নিয়ন্ত্রণ করা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। গুটিকয়েক শিক্ষক/ কর্মচারীর কারণে গোটা প্রশ্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়ে পড়ছে।

৫. সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশ্ন ফাঁসকারীদের চিহ্নিত করতে এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা আরও বৃদ্ধি করার সুযোগ রয়েছে। এটা পরীক্ষা শুরুর কমপক্ষে ১৫ দিন পূর্ব হতে করা সম্ভব হলে ভালো ফল পাওয়া যেতে পারে।

গোয়েন্দা সংস্থার লোকবল ও অবকাঠামোগত ও প্রযুক্তিগত স্বল্পতার কারণেও কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় নজরদারি করা সম্ভব হচ্ছে না মর্মে প্রতীয়মান হয়। দুষ্কৃতিকারীদেরকে তাৎক্ষণিক গ্রেফতার ও শাস্তি প্রদান করতে না পারায় অন্যরাও অপরাধ করতে ভয় পাচ্ছে না।

৬. বিটিআরসি কর্তৃক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিয়ন্ত্রণের তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশ্ন আপলোডকারীদের চিহ্নিত করতে পারা যাচ্ছে না এবং সন্দেহজনক একাউন্ট বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না।

জানা গেছে, প্রশ্ন প্রস্তুতের দায়িত্ব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে। তা সারাদেশে পৌঁছানোর কাজ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আর সম্প্রতি প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে তা সবচেয়ে বেশি দ্রুত ছড়িয়েছে অনলাইনে বা ইন্টারনেটের মাধ্যমে। তাই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আমন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট দুই মন্ত্রণালয়ও এ বৈঠকে উপস্থিত ছিল।

Top