আজ : সোমবার, ১৬ই জুলাই, ২০১৮ ইং | ১লা শ্রাবণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

নাটোরে শিশু ধর্ষণের মেডিকেল রিপোর্টে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগঃ সুষ্ঠ বিচার নিয়ে শঙ্কা


নাটোর জেলা প্রতিনিধিঃ
নাটোরের বড়াইগ্রামে স্কুল পড়ুয়া এক শিশু (৯) ধর্ষণের মেডিকেল রিপোর্টে অসঙ্গতি থাকায় রিপোর্টটি উচ্চতর মেডিকেল বোর্ড গঠন করে পর্যালোচনাসহ পুরো বিষয়টি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ধর্ষণের শিকার হওয়া শিশুটির পিতা ও পরিবারের সদস্যরা। শনিবার দুপুরে বড়াইগ্রাম উপজেলা সাংবাদিক ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্য সুত্রে জানা যায়, বনপাড়া পৌরসভার পূর্ব হারোয়া এলাকার প্রতিবেশী চাঁন প্রামাণিকের ছেলে এবারের এসএসসি পরীক্ষার্থী মাহবুর রহমান (১৬) গত ২৪ জানুয়ারী দুপুর ১২টার দিকে শিশুটিকে বাই সাইকেল চালানো শিখাতে প্রথমে বাড়িতে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরে বাড়ি ফিরে এসে মায়ের কাছে শিশুটি সব ঘটনা খুলে বললে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঐ দিন বিকেলেই পিতা বাদী হয়ে থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। শিশুটির পিতা অভিযোগ করেন, পরের দিন দুপুর দেড়টার দিকে ঐ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শিখা রাণী শিশুটির মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন করেন। অথচ মেডিকেল রিপোর্টে তারিখ দেখানো হয়েছে আগের দিন ২৪ জানুয়ারী সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। এ ছাড়া রিপোর্টে লেখা রয়েছে সেক্সুয়েল এসল্ট, দেয়া হয়েছে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন এন্টিবায়োটিক ও ব্যাথানাশক ঔষধ, বুকের নীচের অংশে কালো দাগ রয়েছে এবং মানসিক অবস্থা খারাপ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে অথচ চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ধর্ষণের কোন আলামত পাওয়া যায়নি। লিখিত বক্তব্যে শিশুটির বাবাা আরো অভিযোগ করে বলেন, অভিযুক্ত মাহবুরের মা ময়জান বেগম দীর্ঘদিন ধরে নাটোর নারী ও শিশু আদালতের সরকারী এক আইনজীবির বাসার গৃহকর্মী। ঐ আইনজীবির মাধ্যমে ডা. শিখা রাণীকে প্রভাবিত করে এ ভুয়া মেডিকেল রিপোর্ট তৈরী করা হয়েছে বলে তাদের ধারণা। এই রিপোর্টের ফলে তারা ন্যায় বিচার পাবেন না বলে আশঙ্কা করে শিশুটির পিতা ও পরিবারের সদস্যরা উচ্চতর মেডিকেল বোর্ড গঠন করে ডাক্তারি রিপোর্ট পর্যালোচনা এবং পুরো বিষয়টি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন মহামান্য হাইকোর্ট ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে।

ডা. ডলি রাণীকে মোবাইলে এই অসঙ্গতিপূর্ণ রিপোর্টের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোন উত্তর না দিয়ে লাইনটি কেটে দেন। পরে আরও কয়েকবার কল দিলেও তিনি তা রিসিভ করেননি। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই তহছেনুজ্জামান জানান, প্রাথমিক তদন্তে আসামী ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন। তিনি আরও জানান, মামলার দায়ের করার পরের দিন আসামী মাহবুরকে পুলিশ গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। পরবর্তীতে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দানের লক্ষ্যে আদালত গত ৩০ জানুয়ারী তাকে ২৪ দিনের জন্য অন্তবর্তীকালীন জামিন দেন।

Top