আজ : রবিবার, ১৯শে নভেম্বর ২০১৭ ইং | ৫ই অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

ভারত-মিয়ানমার সীমান্তে উত্তেজনা


সকল নিউজ আপডেট পেতে পেইজে লাইক দিন

মিয়ানমার সীমান্তে হঠাৎ করেই জঙ্গিবিরোধী অভিযান চালিয়েছে ভারত। নাগা জঙ্গিদের বিরুদ্ধে দেশটির সেনাবাহিনীর এই অভিযান ঘিরে দু’দেশের সীমান্তে উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে খবর দিয়েছে আনন্দবাজার পত্রিকা।

শুক্রবার পত্রিকাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জঙ্গি-সেনা সংঘর্ষে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল ভারত-মিয়ানমার সীমান্ত। নাগা জঙ্গিদের বিরুদ্ধে রীতিমতো অভিযানই চালিয়েছে সেনারা।
আবার দিল্লিতে বৃহস্পতিবার থেকেই শুরু হয়েছে ছ’টি নাগা জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে কেন্দ্রের রাজনৈতিক আলোচনা।
বুধবার ভোরে অরুণাচলের লংডিং জেলার মিয়ানমার সীমান্তে নাগা জঙ্গিগোষ্ঠী এনএসসিএন (খাপলাং)-এর সঙ্গে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সংঘর্ষ হয়।
সেনা সূত্রে দাবি করা হয়েছে, ওই অভিযানে বহু জঙ্গির মৃত্যু হয়েছে। কোনো কোনো শিবির থেকে এই দাবিও ওঠে— ফের মিয়ানমার সীমান্ত পেরিয়ে নাগা জঙ্গিদের বিরুদ্ধে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালিয়েছে সেনা।
যদিও সেনাবাহিনীর পক্ষে সেই খবরের সত্যতা অস্বীকার করা হয়েছে। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, সীমান্ত পার হওয়ার কোনো প্রশ্নই নেই। ভারতীয় সেনারা সীমান্ত অতিক্রম করেনি।
২০১৫ সালের জুন মাসে মণিপুরের চান্দেল জেলায় ভারতীয় বাহিনীর কনভয়ে হামলা চালিয়েছিল এনএসসিএন (খাপলাং)। মারা যায় ডোগরা রেজিমেন্টের ১৮ সেনা। তারপর থেকেই ওই জঙ্গিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযান তীব্র করা হয়েছিল।
গোয়েন্দা দপ্তর জানিয়েছিল, চান্দেলের ওই হামলা পুর্বপরিকল্পিত। শুধু খাপলাং গোষ্ঠীর জঙ্গিরাই নয়, উত্তর পূর্বের অন্য জঙ্গিগোষ্ঠীগুলির সদস্যরাও এই অভিযানে অংশ নিয়েছিল।
বস্তুত, এই হামলার কিছু দিন আগেই উত্তর পূর্বের জঙ্গি সংগঠনগুলি একটি সাধারণ মঞ্চ তৈরির প্রস্তুতি শুরু করেছিল। তারই ফলশ্রুতি ছিল ওই হামলা।
এ দিনের সংঘর্ষের বিষয়ে সেনা সূত্রের খবর, ভোর চারটে নাগাদ ভারত-মিয়ানমার সীমান্তে ওই গুলির লড়াই শুরু হয়।
সেনাবাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ড জানিয়েছে, ভারতের নিরাপত্তা বাহিনী সীমান্তে টহল দিচ্ছিল। সে সময়ে জঙ্গিরা আচমকা তাদের ওপর গুলিবর্ষণ শুরু করে। এরপরই পাল্টা জবাব দেয় সেনারা। দু’পক্ষের মধ্যে তীব্র গোলাগুলি হয়।
সেনার পাল্টা জবাবে পিছু হটতে বাধ্য হয় জঙ্গিরা। এরপর জঙ্গিদের পিছু নিয়ে তাদের ঘাঁটিতে গিয়ে হামলা চালায় ভারতীয় বাহিনী।
যদিও অন্য একটি সূত্রের মতে, জঙ্গিরা যে ওই পথে আসবে তা আগে থেকেই জেনে গিয়েছিল সেনারা। সে খবর পেয়েই ওঁৎ পেতে ছিল জওয়ানরা। আচমকা হামলার মুখে বড়সড় ক্ষতির মুখে পড়তে হয় নাগা জঙ্গিদের।
তবে জঙ্গিদের হামলায় সেনারা কেউ জখম হয়নি বলেও দাবি করা হয়েছে।
বিজেপির একটি মহল এবং সরকারি আমলাদের একটা ছোট অংশ এ দিনের সংঘর্ষের ঘটনাকে সীমান্ত পেরিয়ে মিয়ামনারের মাটিতে নাগা জঙ্গিদের ঘাঁটিতে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক বলে দাবি করেছিল। কিন্তু, সেনাবাহিনী তা অস্বীকার করার পরে তারা আর মুখ খোলেননি।
সীমান্তে গোলাগুলির পাশাপাশি দিল্লিতে বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে ছ’টি নাগা জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে কেন্দ্রের রাজনৈতিক আলোচনা। এনএসসিএন কিতোভি, এফজিএন, এনএনসি (প্রধান), এনএনসি (এনএ), এনএসসিএন রিফর্মেশন (খাপলাংয়ের সঙ্গ ত্যাগ করে আসা গোষ্ঠী) ও এনএনসি (জিডিআরএন) সংগঠনগুলির মোট ১৬ জন প্রতিনিধি নয়াদিল্লিতে এই আলোচনায় অংশ নেন। যৌথ মঞ্চের নাম দেয়া হয়েছে ‘নাগা ন্যাশনাল পলিটিক্যাল গ্রুপ’ বা এনএনপিজি।
নাগা সমস্যা সমাধানের জন্য ১৯৯৭ সাল থেকে কেন্দ্র শুধুমাত্র এনএসসিএন (আই-এম)-এর সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে। তাদের সঙ্গে শান্তি চুক্তির প্রস্তাবনাও স্বাক্ষর হয়েছে।
অন্য দলগুলোর দাবি, একটি গোষ্ঠীর সঙ্গে শান্তি চুক্তি করলেই রাজ্যে শান্তি ফিরবে না। কারণ টাংখুল নাগাদের দল আইএম নাগাল্যান্ডের সব গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করে না। সব গোষ্ঠীর মধ্যে তাদের গ্রহণযোগ্যতাও নেই।

Top