আজ : মঙ্গলবার, ১২ই ডিসেম্বর ২০১৭ ইং | ২৮শে অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

জেনে নিন পুরুষের হস্তমৈথুন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য


সকল নিউজ আপডেট পেতে পেইজে লাইক দিন

হস্তমৈথুন বা মাস্টারবেশন ব্যাপারটির সাথে সব পুরুষই কমবেশি পরিচিত, এই ব্যাপারটি বিস্তারিত বলার কিছু নেই। নারীদের মাঝেও হস্তমৈথুন আছে, তবে পুরুষের মাঝেই বিষয়টির আধিক্য বেশি। আর এর কারণে পুরুষেরাই অধিক স্বাস্থ্যসমস্যাতে ভুগে থাকেন ।

সবার মাঝেই হস্ত মৈথুন প্রসঙ্গে নানান রকমের কুসংস্কার ও ভুল ধারণা আছে। কেউ কেউ মনে করেন হস্তমৈথুন করায় কোন দোষ নেই, কেউ কেউ ভাবেন ব্যাপারটি খুব খারাপ, কারো মনে হয় এটা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। তবে মূল বিষয়টি হচ্ছে, হস্তমৈথুন তখনই স্বাস্থ্যের জন্য ভালো যখন তা করা হবে নিয়ন্ত্রিত মাত্রায়।দৈনিক কতবার তাহলে হস্তমৈথুন করা যেতে পারে? এতে কি পুরুষত্ব নিয়ে বা স্ত্রীর সাথে যৌন জীবনে কোন সমস্যা হয়? জেনে নিন আপনার অজানা প্রশ্নগুলোর জবাব এই লেখায়।

খুবই স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া হস্তমৈথুন। একটা নির্দিষ্ট বয়সের পর শারীরিক ও পারিপার্শ্বিক নানান কারণে উঠতি বয়সের ছেলেরা অভ্যস্ত হয়ে পড়েন হস্তমৈথুনে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, হস্তমৈথুন ভালো কি খারাপ? উত্তরটা হচ্ছে, কোন জিনিস যখন খুব বেশি করা হয়, সেটা অবশ্যই খারাপ। হস্তমৈথুনও তাই। চিকিৎসকদের মতে সপ্তাহে ১ থেকে ৩ বার হস্তমৈথুন মোটেও দোষের কিছু নয়। বরং এতে মানসিক স্বাস্থ্য ভালো থাকে। হস্তমৈথুন করতেই হবে এমন কোন কথা নেই, তবে সপ্তাহে ২/৩ বার করলে দোষের কিছুই নেই। তবে হ্যাঁ, কেউ যদি দৈনিক হস্তমৈথুন করেন, কিংবা দিনে একাধিকবার করতে থাকেন, বিষয়টি নিঃসন্দেহে তার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক।

বেশি কাজ করা যেমন ভাল নয়, ভাল নয় বেশি পড়াশোনা করাও, তেমনি বেশি হস্তমৈথুন করাও ঠিক নয়।

বেশি বেশি হস্ত মৈথুন করলে বেশ কিছু সমস্যার মুখোমুখি হতে পারেন আপনি। জেনে নিন দৈনিক একাধিকবার হস্তমৈথুন করার অপকারিতা।

-যেহেতু বীর্য তৈরি হয় অন্ডকোষে, তাই বেশি হস্তমৈথুনের ফলে, অণ্ডকোষে বীর্যরস তৈরিতে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। বাড়তি বীর্য তৈরির চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে পারে অণ্ডেকোষ। ফলে অণ্ডথলিতে ব্যাথা হওয়া অস্বাভাবিক নয়।

-অতিরিক্ত হস্তমৈথুনে মস্তিষ্কে বীর্য তৈরির হরমোনের ঘাটতিও দেখা দিতে পারে। সেক্ষেত্রে মস্তিষ্কের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। ফলে মাথাব্যাথা সহ মস্তিষ্কের নানা সাময়িক ত্রুটি দেখা দিতে পারে।

-ঘন ঘন হস্তমৈথুনে বীর্য পাতলা হয়ে যায় খুব স্বাভাবিকভাবেই। যদি ক্রমাগত ব্যাপারটা চালিয়ে যেতে থাকেন, স্বাস্থ্য সমস্যা তৈরি হবে।

-তাছাড়া অতিরিক্ত হস্তমৈথুনের ফলে যৌনাঙ্গে ব্যাথা ও আংশিক বিকৃতি ঘটতে পারে।

-শরীর চড়া অবস্থায় হস্তমৈথুন করলে, প্রসাবে জালাপোড়া বেড়ে যায় খুব বেশিমাত্রায়। তাই হস্তমৈথুন নিয়ন্ত্রিত ও সতর্কতার সাথে করা উচিত।

-খুব বেশি হস্তমৈথুনে স্বাস্থ্যের প্রতি প্রভাব পড়ে। বিশেষ করে উঠতি বয়সী তরুণদের বাড়ন্ত সময়ে অতিরিক্ত হস্তমৈথুন ভালো নয়।

-হস্তমৈথুনে অভ্যস্ত অনেক পুরুষই পরবর্তী যৌন জীবনে সুখী হতে পারেন না। কারণ এই হস্তমৈথুন তাঁদের অভ্যাসে পরিণত হয়ে যায় আর এটাতেই তাঁরা স্বস্তি বোধ করেন।

মনে রাখবেন, যৌন বিষয়ক কোনো সমস্যা যদি দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে তখন অবহেলা না করে একজন যৌনরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়া অবশ্যই উচিত। হস্তমৈথুন একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, তবে একে অতিরিক্ত পর্যায়ে নেয়া মোটেও ভালো নয়। হ্যাঁ, এটা আপনার পুরুষত্ব নষ্ট হবে না ঠিকই, তবে নানা রকম শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।

Loading...

Top