আজ : সোমবার, ২৩শে জুলাই, ২০১৮ ইং | ৮ই শ্রাবণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

পতিতার বিছানায় মন্ত্রী!


সাবেক প্রধানমন্ত্রী হ্যারল্ড উইলসনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন রয় জেনকিনস। তাকে বলা হয় ‘পারমিসিভ সোসাইটি’র (অনুমোদিত সমাজ) কারিগর। এখানে অনুমোদিত সমাজ বলতে অন্য কিছু বোঝানো হয়েছে। বলা হয়, রয় জেনকিনসের হাত ছিল অতিশয় অনুমোদিত। অর্থাৎ এই হাত বিচরণ করতে পারতো যেখানে সেখানে। সামনে নারী পেলে তো কথাই নেই।

এ বিষয়ে ইতিহাসবেত্তা এএন উইলসন লিখেছেন, তার (রয় জেনকিনস) হাত সর্বত্রই সক্রিয় ছিল। এ ঘটনা বিতর্কের এক বড় বিষয়। কখনো তার এই হাত কোনো হোস্টেজের ঊরুর স্পর্শ নিচ্ছে। হার্বার্ট অ্যাসকুইথের জীবনীকারের মতে, রয় জেনকিনস তার পূর্বসূরীদের ‘খ্যাতির’ যেন অনুসরণ করছিলেন। ১৯৪৫ সালে তিনি বিয়ে করেন জেনিফারকে। এরপর তিনি বিন্দুমাত্র সময়ও ক্ষেপণ করেন নি। তিনি নিজেকে একেবারে মুক্ত বিহঙ্গের মতো ভাবতে লাগলেন। যেখানেই পান ‘ভিন্নতায় মেতে’ ওঠেন। তিনি বশীকরণ করেছেন তার ঘনিষ্ঠ দু’ বন্ধুর স্ত্রীদের। তাদের শয্যা গ্রহণ করেন তিনি। তাদের সঙ্গে গড়ে তোলেন যৌন সম্পর্ক। ওই দু’জন বন্ধু হলেন কনজারভেটিভ দলের তখনকার মন্ত্রী স্যার ইয়ান গিলমোর এবং লিবারেল এমপি মার্ক বোনহ্যাম-কার্টার।

এই দুই নেতার স্ত্রীরাও কোনো রাখঢাক রাখেন নি। তারা প্রকাশ্যে রয় জেনকিনসের অক্সফোর্ডশায়ারের বাড়িতে আসা-যাওয়া করতে থাকেন। বাসায় রয় জেনকিনসের স্ত্রী থাকা অবস্থায়ও তাদের এই রোমান্স চলতো। ওই দুই নেতার স্ত্রীরা ওই বাড়িতে গিয়ে রোমান্সে মিলিত হতেন। এর বাইরে তুসক্যানিতে ছুটির দিনগুলোতে তারা সবাই পারিবারিকভাবে মিলিত হতেন। এই সোসাইটিকেই আখ্যায়িত করা হয়েছে ‘পারমিসিভ সোসাইটি’ হিসেবে। দীর্ঘদিন এই চাপা কষ্ট মেনে নিতে হয়েছে জেনিফারকে। তার তখন করার কিছুই ছিল না। প্রধানমন্ত্রী হ্যারল্ড উইলসনের প্রতিপক্ষ কনজারভেটিভ দলের এডওয়ার্ড হিথ এ ধারায় তার প্রশাসনের সর্বশেষ ব্যক্তি ছিলেন, যিনি ‘সোসাইটি’ হোস্টদের যৌন নির্যাতন করেছেন। তবে যুবকদের সঙ্গে তার যৌন নির্যাতনের যে গুজব শোনা গিয়েছিল তাকে বলা হয় ঐতিহাসিক। এমন অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলা হয়েছে। ফলে সরকার যৌন কেলেঙ্কারি থেকে মুক্ত ছিল না।

ফিরছি আরেকটি অধ্যায়ে। সে ১৯৭৩ সালের কথা। তখন প্রতিরক্ষা বিষয়ক জুনিয়র মন্ত্রী ছিলেন লর্ড ল্যাম্বটন। এ সময়ে চারদিকে খবর ছড়িয়ে পড়লো যে, তিনি ‘লন্ডনের শীর্ষস্থানীয় একজন ম্যাডাম’ পরিচালিত অভিজাত শ্রেণির অ্যাসকর্ট এজেন্সির নিয়মিত খদ্দের ছিলেন। ওই অ্যাসকর্ট এজেন্সি পরিচালনা করতেন জ্যাঁ হর্ন নামের এক ‘শীর্ষ স্থানীয় ম্যাডাম’। এই এজেন্সিতে তার সবচেয়ে প্রিয় ছিলেন ২৬ বছর বয়সী একজন দেহপসারিণী। তার নাম নরমা লেভি। মাঝে মধ্যেই তাকে বিনিময়ে নগদ অর্থ দিতেন ল্যাম্বটন। আরো অর্থ দিতেন এ জন্য যে, নরমা যেন অন্য কোনো পুরুষের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক না রাখেন।

ঘটনার এই মোড়ে আমরা একবার ল্যাম্বটনের ব্যক্তিগত জীবনের দিকে ফিরে তাকাতে চাই। তার জন্ম ১৯২২ সালের ১০ই জুলাই সাসেক্সের ক্যাম্পটনে। তার পুরো নাম অ্যান্টনি ক্লাউড ফ্রেডেরিক ল্যাম্বটন। সংক্ষেপে তাকে বলা হয় ডারহামের ষষ্ঠ আরল। তবে ব্যাপকভাবে তিনি লর্ড ল্যাম্বটন নামেই বেশি পরিচিত। বৃটিশ পার্লামেন্টে কনজারভেটিভ পার্টির একজন সদস্য ছিলেন। তার এক কাজিন ছিলেন স্যার আলেক ডগলাস-হোম। বৃটেনের এক সময়ের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন স্যার আলেক ডগলাস-হোম।

১৯৭৩ সালে পার্লামেন্ট ও মন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেন লর্ড ল্যাম্বটন। তার পিতার নাম জন ল্যাম্বটন (ডারহামের ৫ম আরল) ও মা ডায়ানা মেরি। তিনি ছিলেন তাদের দ্বিতীয় ছেলে। ডারহাম কাউন্টিতে ওয়াশিংটন এলাকায় ল্যাম্বটন ক্যাসেলে বা প্রাসাদে বড় হয়েছেন তিনি। এটা ছিল তাদের পারিবারিক এস্টেট। তিনি পড়াশোনা করেছেন হ্যারো স্কুলে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় দায়িত্ব পালন করেছেন হ্যাম্পশায়ার রেজিমেন্টে। এরপরে তিনি ওয়ালসেন্ড ফ্যাক্টরিতে যুদ্ধ বিষয়ক কাজে নিযুক্ত হন। ১৯৪২ সালের ১০ই আগস্ট তিনি বিয়ে করেন বেলিন্ডা ব্লিউ-জোনস’কে। তিনি ছিলেন ডগলাস হোল্ডেন ব্লিউ-জোনস ও তার স্ত্রী ভায়েলেট হিলদা মার্গারেট বারকিনের মেয়ে। ল্যাম্বটন ও বেলিন্ডা দম্পতির ছিল ৫ মেয়ে ও এক ছেলে। কিন্তু সবকিছু তালগোল পাকিয়ে যায় ১৯৭৩ সালে। ওই সময়ে অধুনালুপ্ত দ্য নিউজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড ট্যাবলয়েড পত্রিকার রোববারের সংস্করণে লর্ড ল্যাম্বটনের পতিতা সংযোগের কথা ফাঁস করে দেয়। লর্ড ল্যাম্বটন যে নরমা লেভি নামের পতিতার কাছে যেতেন তার স্বামী গোপন ক্যামেরায় ছবি ধারণ করেন। তাতে দেখা যায়, নরমা লেভির সঙ্গে লর্ড ল্যাম্বটন এক বিছানায় আপত্তিকর অবস্থায়।

এই ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ...
Top