Wednesday, November 30th, 2022

নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ভারতে বেকারত্ব বেড়েছে

ভারতে আবারও বেকারত্বের হার বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি কাজ কমেছে সে দেশের গ্রামাঞ্চলে। ৬ নভেম্বর শেষ হওয়া সপ্তাহে ভারতের গ্রামাঞ্চলে বেকারত্বের হার দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৬৮, যেখানে বেকারত্বের সামগ্রিক হার ৮ দশমিক ৪২। দেশটির গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিএমআইইর গবেষণা প্রতিবেদনে এমন চিত্র উঠে এসেছে।

সেপ্টেম্বরে ভারতে বেকারত্বের হার নেমেছিল চার বছরের সর্বনিম্ন অবস্থানে—৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ। কিন্তু গত মাস থেকে তা আবার বাড়তে শুরু করে—৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ থেকে পৌঁছে যায় ৭ দশমিক ৭৭ শতাংশে।

সিএমআইইর প্রতিবেদনের যে দিকটি উদ্বেগের তা হলো, গত মাসের বেকারত্ব বৃদ্ধির বাস্তবতা চলতি মাসের শুরুর দিকেও অব্যাহত আছে আর তা ঊর্ধ্বমুখী। সেখানে জানানো হয়েছে, আলোচ্য সপ্তাহে ভারতে বেকারত্ব ৬ দশমিক ৬৯ শতাংশ থেকে একলাফে পৌঁছে গিয়েছে ৮ দশমিক ৪২ শতাংশে। শহরে সেই হার বাড়লেও তুলনায় তা কম—৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ থেকে হয়েছে ৭ দশমিক ৮৭ শতাংশ। কিন্তু গ্রামে তা ৬ দশমিক ৩৭ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ, অর্থাৎ বেড়েছে ২ শতাংশের বেশি। তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করেন, সপ্তাহের পরিসংখ্যান দিয়ে কাজের বাজারের গতিপ্রকৃতি ঠিকঠাক বোঝা যায় না।

সিএমআইইর প্রতিবেদনে ব্যাখ্যা, গত মাসে বেকারত্বের হার বৃদ্ধির পাশাপাশি কাজের বাজারে অংশগ্রহণের হার কমেছে। এই দুটি ঘটনা যুগপৎ ঘটার অর্থ হলো, সরাসরি কাজ কমে যাওয়া। সমীক্ষকদের হিসাব অনুযায়ী, অক্টোবরে ভারতে কাজ কমেছিল ৭৮ লাখ, কর্মহীনের সংখ্যা বেড়েছিল ৫৬ লাখ। আর প্রায় ২২ লাখ মানুষ কাজের বাজার থেকেই নিজেদের সরিয়ে নিয়েছিলেন। ঠিক এ ধরনের ঘটনা ঘটে কাজের বাজারে পা রাখা মানুষদের জন্য পর্যাপ্ত চাকরি না থাকলে। ফলে সব মিলিয়ে কাজ খোঁজা মানুষের সংখ্যাও ৪৩ দশমিক ২ কোটি থেকে কমে হয়েছিল ৪২ দশমিক ৯৮ কোটি। এই নিট হ্রাসের প্রায় পুরোটাই গ্রামাঞ্চলে, যেখানে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের মানুষের সংখ্যা অনেকটা বেশি। তবে উল্লেখ্যযোগ্য বিষয় হলো, গত এক বছরে বারবার কৃষি খাতে কাজ কমলেও সম্প্রতি ঘটেছে ঠিক তার উল্টো। বিপুলসংখ্যক মানুষের কাজ গেছে পরিষেবা খাতে, বিশেষ করে গ্রামীণ খুচরা ব্যবসায়। যে প্রবণতা নভেম্বরের শুরুতেও বজায় আছে।

২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে জাতীয় পরিসংখ্যান দপ্তরের (এনএসও) ফাঁস হওয়া প্রতিবেদনে জানা যায়, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ভারতের বেকারত্ব ছিল ৬ দশমিক ১ শতাংশ, যা চার দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। সেই সময়ে বিষয়টি অস্বীকার করলেও নির্বাচনে বিপুল জয়ের পর মোদি সরকার প্রতিবেদনের সত্যতা স্বীকার করে নেয়। কিন্তু তার পর থেকে বেকারত্ব বা কাজের বাজারের পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান সরকারের তরফে প্রকাশ করা হয়নি। কিন্তু সংশ্লিষ্ট মহলের বক্তব্য, সিএমআইইর পরিসংখ্যানকে মর্যাদা দিলে বলতে হয়, বেকারত্বের হার এখন সেই সময়ের চেয়েও বেশি।