Tuesday, April 23rd, 2024

মুজিব: একটি জাতির রূপকার – সত্যের জীবন চলচ্চিত্রে

বাংলাদেশের এক দুরন্ত কিশোর, যার জীবন আপনারা আগে দেখেননি এমন, সংসারে অনেক অদ্ভুত ঘটনার সাক্ষী। গ্রামে থাকার সাথে সাথে তার খেলা আর বন্ধুবান্ধবে মেতে উঠতে থাকে, কিন্তু কোনো সময় তিনি জড়িয়ে পড়ে মারামারিতে। বাবার কাছে প্রতিবাদ করা থাকে, কিন্তু এই কিশোর অধিকার নিয়ে কথা বলতে গিয়ে একসময় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। এরই ঘটনায় ভাষা আন্দোলনে অংশ নেয়া হয়। এই সত্যের গল্পটি এখন চলচ্চিত্র মাধ্যমে প্রকাশ পাচ্ছে “মুজিব: একটি জাতির রূপকার” নামক চলচ্চিত্রে।

চলচ্চিত্রটি দেখেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, যা বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভে অনুষ্ঠিত প্রিমিয়ারে জানানো হয়েছে। চলচ্চিত্রটির অভিনয়শিল্পীগুলি মুজিব চরিত্রে তাদের ক্ষমতা দেখিয়েছেন, সাথে রয়েছেন বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রখ্যাত শিল্পীগুলি এবং ভারতীয় অভিনেতা-অভিনেত্রীরা।

চলচ্চিত্রের প্রধান কাহিনি হলো বাঙালির প্রিদর্শনী শখের জনপ্রিয় সত্তার মুজিব চরিত্রের গল্প। এটি মুজিবুর রহমানের জীবন, কর্মযজ্ঞ, ও তার বাংলাদেশ প্রতি অসমর্থন এবং প্রতিরোধের জীবনযাত্রার উপর ভিত্তি করে। এই চলচ্চিত্রটি না শুধুই একটি সিনেমা নয়, বরং এটি একজন কিশোর থেকে বাঙালি জাতির পিতা হওয়ার গল্প।

চলচ্চিত্রে অভিনয় করা হয়েছে বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞ অভিনয়শিল্পীদের মধ্যে চঞ্চল চৌধুরী, যিনি বঙ্গবন্ধুর পিতা শেখ লুৎফর রহমানের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। তাঁর মুখে এই চলচ্চিত্রটি নিয়ে বলা হয়েছে, “বিনোদনের জায়গা থেকে আমরা যেভাবে সিনেমাকে চিন্তা করি, সেই ভাবনা থেকে একটু সরে এসে সিনেমাটিকে দেখতে হবে। আরও বড় কিছু চিন্তা করলে ভালো হয়। কারণ, এই সিনেমা বঙ্গবন্ধুর জীবন, কর্মযজ্ঞ, তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা উঠে এসেছে।”

আরিফিন শুভ, যিনি বঙ্গবন্ধুর চরিত্রে অভিনয় করেছেন, বলেন, “এই সিনেমায় আমাকে যদি পাসিং শট দিতে বলতেন, তবু রাজি হতাম। যদি শুটিংয়ের প্রোডাকশন বয় বা লাইটম্যান হওয়ার সুযোগ পেতাম, তাহলেও একজন অভিনেতা হিসেবে গর্বিত হতাম।”

চলচ্চিত্রে অভিনয় করা হয়েছে আরও কিছু প্রখ্যাত অভিনেতা-অভিনেত্রীগুলির, যেমন ফজলুর রহমান বাবু, নুসরাত ইমরোজ তিশা, চঞ্চল চৌধুরী, নুসরাত ফারিয়া, সাবিলা নূর এবং ভারতীয় অভিনেতা রাজেন মোদি, শ্রীজা ভট্টাচার্য, দেবাশীষ নাহা, সোমনাথ, আবির সুফি, অরুণাংশু রায়, কৃষ্ণকলি গাঙ্গুলি প্রমুখ।

চলচ্চিত্রটির শুটিং হয়েছিল বাংলাদেশে এবং ভারতে। সবচেয়ে অবাধ্য মুম্বাইয়ের দাদাসাহেব ফালকে ফিল্ম সিটিতে প্রচারিত করা হয়েছে এই চলচ্চিত্রটি। বাংলাদেশের টুঙ্গিপাড়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং মিছিল-মিটিংয়ের স্থান, এবং শেখ মুজিবের স্মৃতিবিজড়িত কলকাতার বেকার হোস্টেল হলে তাদের একসময়ে যাত্রা করে এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে দর্শকদেরকে নিয়ে যাচ্ছেন।

“মুজিব: একটি জাতির রূপকার” সিনেমার সম্পূর্ণ দৈর্ঘ্য ২ ঘণ্টা ৫৮ মিনিট এবং এর বাজেট ৮৩ কোটি টাকা। চলচ্চিত্রটি বিএফডিসি (বাংলাদেশ) ও এনএফডিসি (ভারত) এর সাথে যোগাযোগে তৈরি হয়েছে।

“মুজিব: একটি জাতির রূপকার” এই চলচ্চিত্রে দেখা যাবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনের এক অদৃশ্য অংশ, যা সাধারণ মানুষদের জীবনের প্রবাহে প্রবেশ করতে পারে এবং তাদেরকে বাঙালি জাতির অদভুত গর্বে আরোহিত করতে সাহায্য করতে পারে।